ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগের হল কমিটি নিয়ে নতুন ধোঁয়াশা

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

১৪ মাস ধরে ছাত্রলীগের হল কমিটি নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। বলতে গেলে হলগুলোতে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অধীনে থাকা হল কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন নেতৃত্ব আসেনি। তা ছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসায় হল কমিটি নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ২৯তম ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হয়। পরে ওই বছরের জুলাই মাসের ৩১ তারিখ রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিনই সনজিত চন্দ্র দাসকে সভাপতি ও সাদ্দাম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি। আগের কমিটি অর্থাৎ ছাত্রলীগের সোহাগ-জাকির কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন আবিদ আল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোতাহার হোসেন প্রিন্স। তাদের সময় ঢাবির ১৮টি আবাসিক হলে ৩৬ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এদের মধ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন ২১ জন। ডাকসুর সদস্য হয়েছেন একজন, হল সংসদের ভিপি ও জিএস হয়েছেন দুজন। বাকি ১২ জন কোনো পদ পাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকলেও নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার চার নেতাকে আবর্তন করে সক্রিয় থাকেন। সে হিসেবে সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে আবর্তন করে বছরেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় থাকা প্রার্থীরা পড়েছেন দোটানায়। কুড়িগ্রামের সন্তান শোভনকে আবর্তন করে সক্রিয় থাকা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও উত্তরাঞ্চলের একটি অংশের প্রার্থীরা ও রাব্বানীকে আবর্তন করে সক্রিয় থাকা ফরিদপুর অঞ্চলের প্রার্থীরা অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

এদিকে নতুন দায়িত্বে আসা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ঘিরে আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সক্রিয় হচ্ছে ক্যাম্পাসের বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের প্রার্থীরা। ফলস্বরূপ হলগুলোর নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন ধোঁয়াশার।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হল কমিটি দিতে আরো মাস খানেক সময় লাগবে। কারণ, হল কমিটিগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের ব্যাপার আছে। তা ছাড়া প্রার্থীর রাজনৈতিক মতাদর্শ ও তার গুণাবলিও বিচেনায় রাখতে হবে। সবমিলিয়ে তড়িঘড়ি করে কোনো কমিটি দেওয়ার পক্ষে আমি নই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রার্থী জানান, সাংগঠনিক গতিশীলতা, দায়িত্ববোধ, অধিক নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য গঠনতান্ত্রিক মেয়াদ শেষে সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তরে নিয়মিত সম্মেলন চান তারা। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হল কমিটি দেওয়া হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন অনেকেই। ১৪ মাস সক্রিয় থাকার পর পুরোনো নেতৃত্ব ভেঙে নতুন নেতৃত্ব আসায় কমিটি নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’র সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান হলের নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা।

তবে নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি সমস্যা হিসেবে দেখতে নারাজ ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। সুনির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন জানাতে না পারলেও যত দ্রুত সম্ভব হলগুলোতে কমিটি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না নতুন নেতৃত্ব আসায় এই ব্যাপারে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে। এরই মধ্যে আমরা যাচাই-বাছাই শুরু করেছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা হলগুলোর কমিটি ঘোষণা করব।

সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বহিষ্কার হওয়ার কয়েক দিন আগে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই হল কমিটি দেবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটি দেওয়া হবে’।

এর আগে গত সোমবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ছাত্রলীগের ‘শক্তির আঁধার’ উল্লেখ করে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল কমিটি ঘোষণা করা হয়নি, এটা আমরা জানি। এই হলগুলো ছাত্রলীগের শক্তির আঁধার। হল কমিটিতে যাচাই বাছাইয়ের ব্যাপার আছে। শিগগিরই ছাত্রলীগের হল কমিটি ঘোষণার ব্যবস্থা করা হবে।’

 

"