বাজার নিয়ন্ত্রণে তোড়জোড়

হঠাৎ পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি : * কমার আশ্বাস বাণিজ্য সচিবের * খোলাবাজারে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি * আরো বাড়ার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

হঠাৎ করেই বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে পেঁয়াজ। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে ঢাকাসহ সারা দেশে বাজারভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২৫ থেকে ৩৫ টাকা বেড়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে যে পেঁয়াজ ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, সেটা এখন প্রতি কেজি ৭৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পদক্ষেপও নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে খোলাবাজারে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরুর পাশাপাশি খুচরা ও পাইকারি বাজারও তদারকির উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার এক বৈঠকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যারিপ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বিরুনি। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীনও। তবে দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল ঢাকার কারওয়ানবাজার, মালিবাগবাজার ও রামপুরাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ ৭৮ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা গত শনিবার ছিল ৭০ টাকা। আর গত বৃহস্পতিবার ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের দামও বেড়ে ৭০ টাকায় ঠেকেছে। এ পেঁয়াজ গত শনিবার বিক্রি হয় ৬০ টাকায়। গত বৃহস্পতিবার ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

কারওয়ানবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সোলাইমান মোল্লা বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়ায় দেশি পেঁয়াজের ওপরেও প্রভাব পড়েছে। চার দিনে পাইকারি বাজারে বস্তা প্রতি ১ হাজার টাকা বেড়েছে। দাম কমার সম্ভাবনা নেই। দাম আরো বাড়তে পারে। এদিকে গতকাল সচিবালয়ে অংশীজনের সঙ্গে সভা শেষে বাণিজ্য সচিব বলেন, যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ ও আমদানির পর্যায়ে রয়েছে, তাতে সহসাই দাম কমে আসবে। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আল বিরুনী বলেন, পেঁয়াজ সিজনাল এবং পচনশীল হওয়ার কারণে আমদানি করতে হয়। আমাদের চাহিদা ২৪ লাখ টন। উৎপাদনও প্রায় ২৪ লাখ টন। কিন্তু পচনের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সাড়ে ৭ লাখ টন। এজন্য আমরা ১০ থেকে ১১ লাখ টন আমদানি করি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য দিয়ে ট্যারিফ কমিশন সদস্য বলেন, গত সোমবার পর্যন্ত ১২ লাখ টনের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আমাদের মজুদ সন্তোষজনক। আমদানির পর্যায়ে রয়েছে ৪০ হাজার টন। এটা আসলে আমাদের লিঙ্ক পিরিয়ড দেড় মাসে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশীয় নতুন পেঁয়াজ আসবে এবং ভারতে এর এক মাস আগে নতুন পেঁয়াজ নামবে। তখন ভারত বেরিয়ার উঠিয়ে দেবে। তখন স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এটা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।

চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় এ দিন ৫৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, আমরা যথেষ্ট নিশ্চিত যে ২৪ ঘণ্টায় দাম কমে আসবে। আজকের বৈঠকের পরে দাম কমে আসবে।

এ ছাড়া পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪৫ টাকা কেজি দরে রাজধানীর পাঁচ স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাজধানীর পাঁচটি স্থানে ৪৫ টাকা কেজি দরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, আজ (মঙ্গলবার) থেকে রাজধানীর পাঁচটি স্থানে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। আমাদের সোর্সিং চলছে, পর্যায়ক্রমে আরো বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক সেল শুরু হবে।

এ দিকে গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক টাস্কফোর্স সভা, বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা ও বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলন হয়। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৭০ টাকা করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসলে মজুদদারদের চিহ্নিত করে মোবাইল কোর্টের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ভারতের কয়েকটি জায়গায় বন্যা হলে এখানে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কথা নয়। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেন তিনি।

অন্যদিকে আমদানি কমায় হিলি স্থলবন্দরে আবারও বাড়ল ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম। প্রকারভেদে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়ে বন্দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে। যে পেঁয়াজ বন্দরে গত দুই দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে ন্যাপেড ভ্যালু বৃদ্ধি করায় বেশি দামে পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। আর যে কারণে পেঁয়াজের আমদানি কমে গেছে এই বন্দর দিয়ে। ফলে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ভারত সরকার রফতানি মূল্য কমে দিলে বাড়বে আমদানি স্বাভাবিক হবে দাম।

বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে এসে দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে পাইকারদের। হিলি কাস্টমসের তথ্য মতে চলতি সপ্তাহের ভারতীয় ৬৪ ট্রাকে ১৪৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

 

"