জম্মু-কাশ্মীরে ফারুক আবদুল্লাহ গ্রেফতার

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, বর্তমান রাজ্যসভা সদস্য, ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) নেতা ফারুক আবদুল্লাহকে ৫ আগস্ট থেকে গৃহবন্দি রাখার পর গত রোববার রাতে জননিরাপত্তা আইনে তাকে (পিএসএ) গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতের একাধিক গণমাধ্যম গতকাল সোমবার এ খবর জানায়। এই জননিরাপত্তা আইনের অধীনে কোনো ট্রায়াল ছাড়াই গ্রেফতারকৃতকে ২ বছর পর্যন্ত আটক রাখা যায়। ৫ আগস্ট থেকে ফারুকের গৃহবন্দিত্ব নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্? বলেন, ‘না তাকে আটক রাখা হয়েছে, না তিনি সাজা প্রাপ্ত হয়েছেন, তিনি যা করছেন সব নিজের ইচ্ছায়।’ যদিও ফারুকের পক্ষ থেকে তখন দুজন এনসি নেতা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে মিথ্যাচার করেছেন।

এর আগে দ্য হিন্দু পত্রিকা সে সময় জানিয়েছিল ৩৭০ ধারা বাতিল করার আগে নরেন্দ্র মোদি ফারুক আবদুল্লাহ এবং তার পুত্র ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এদিকে গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জারি করা এক নোটিসে জানানো হয় ফারুক আবদুল্লাহর মামলাটি শুনানির দিন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।

এদিকে ফারুক আবদুল্লাহকে মুক্তির প্রশ্নে কেন্দ্র সরকার এবং জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি নিজে কাশ্মীরে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। কাশ্মীরকে অবিলম্বে স্বাভাবিক করে তোলারও নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যসভার সংসদ সদস্য এবং এমডিএমকের সাধারণ সম্পাদক ভাইকো ফারুক আবদুল্লাহর মুক্তির দাবিতে যে পিটিশন দাখিল করেছেন, তার শুনানি হয়েছে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এস এ বোবদে ও এস এ নাজিরের বেঞ্চে। ফারুক আবদুল্লাহকে আটক করে হেফাজতে রাখা হয়েছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন বিচারপতিরা। ভাইকোর আইনজীবী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন যে, ফারুক আবদুল্লাহকে আটক করা হয়নি, কিন্তু তিনি এখন কোথায় তা জানা যাচ্ছে না। আবদুল্লাহকে চেন্নাইয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভাইকোর আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, কাশ্মীরে দূরদর্শনের মতো টিভি চ্যানেল- এফএম চলছে। রেস্ট্রিকটেড এলাকায় যাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের পাস দেওয়া হচ্ছে। সরকার সবরকমভাবে সাহায্য করছে। কাশ্মীরের সব খবরের কাগজ প্রকাশিত হচ্ছে। কাশ্মীরের ৮৮ শতাংশ থানার অন্তর্গত এলাকাগুলো থেকে কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে। সব শুনে সুপ্রিম কোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে ভেনুগোপালকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা অটুট রেখে উপত্যকাকে স্বাভাবিক করতে সচেষ্ট হোক কেন্দ্রীয় সরকার ও জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। প্রধান বিচারপতির কথায়, মানুষ যদি হাইকোর্টে যেতে না পারে তা খুব গুরতর বিষয়। সেক্ষেত্রে তিনি নিজে শ্রীনগরে যাবেন।

 

"