গাজীপুরে ফ্রিজ কারখানায় আগুন

ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক * সতর্কতা আমলে নেওয়া হয়নি

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ধীরাশ্রম এলাকায় হাইটেক পার্কে মাইওয়ান ইলেকট্রনিকসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিনিস্টার কারখানায় গতকাল শুক্রবার সকালে ভয়াবহ আগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৬ ইউনিটের কর্মীরা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কারখানটিতে অগ্নিনির্বাপকের ব্যবস্থা ছিল দুর্বলÑ এ ব্যাপারে তাদের আগেই সতর্ক করেছিল টঙ্গী কারখানা অধিদফতরের কর্মকর্তারা। অগ্নিকা-ের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ জানান, ‘কারখানার ভবনটি ছয়তলা। ষষ্ঠতলাতেই আগুনের সূত্রপাত হয়। কিন্তু আগুন লাগার কারণ আমরা এখনই বলতে পারছি না। কারখানা ভবনের ষষ্ঠতলা ও পঞ্চমতলা পুড়ে গেছে। দাহ্যপদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হয়। এ ছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেই কারখানাটিতে। পাশের মার্কওয়্যার লিমিটেডের ডোবা থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এখন ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।’

এদিকে টঙ্গী কলকারখানা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক মোতালিব মিয়া জানান, ‘এই কারখানায় নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার আয়োজন করা হতো না। ছয়তলার ওপর গুদাম রাখারও নিয়ম নেই। কারখানায় ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ছিল না। এ ব্যাপারে প্রায় তিন সপ্তাহ (আনুমানিক ২০-২২ দিন) আগেও আমরা নোটিস দিয়েছিলাম। নোটিসের বিপরীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। এ কারণে কল-কারখানা অধিদফতর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকা-ের ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল্লাহকে (এডিসি-শিক্ষা) প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রকৃত কারণ উদ্্ঘাটন করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানান, সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকা বাইপাস সড়কের ধীরাশ্রম রেলক্রসিং এলাকাসংলগ্ন ইউ আকৃতির ছয়তলা ভবনের মিনিস্টার কারখানার ষষ্ঠতলায় পূর্বপাশে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূতেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কারখানার শ্রমিকরা আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে প্রথমে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের পাঁচটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে একে একে গাজীপুরের শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, ঢাকার উত্তরা ও পূর্বাঞ্চল থেকে ফায়ার স্টেশনের ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অগ্নিনির্বাপণের টিটিএল (মইওয়লা) গাড়ির সাহায্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কারখানার চারপাশ থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রেণের চেষ্টা চালায়।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ডিভিশনের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন, কারখানার ষষ্ঠতলা এবং এর ওপরে একটি টিনশেডে আগুন লাগে। এখানে ইলেকট্রনিকস ডিভাইস এবং প্লাস্টিক সামগ্রী থাকায় প্রচ- ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ভবনে আগুন নির্বাপণের ব্যবস্থা খুবই দুর্বল ছিল বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।

কারখানার নিরাপত্তাকর্মী শামিম জানান, শুক্রবার কারখানা বন্ধ ছিল। সকালে কারখানায় হঠাৎ করে আগুন দেখে আমরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই। তিনি জানান, ভবনটির ষষ্ঠতলায় তৈরি মালামাল রাখার কারখানার গুদাম। সেখানে তৈরি ফ্রিজ, এলইডি টেলিভিশন, রাইস কুকারসহ, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক পণ্য মজুদ ছিল।

আগ্নিকা-ের ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শফিউল্লাহকে (বর্তমান এডিসি শিক্ষা) তদন্ত কমিটির প্রধান করা করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন।

 

"