আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনা

জালিয়াতি বন্ধে আসছে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

শাহজাহান সাজু

আর্থিক খাতের জাল-জালিয়াতি বন্ধে তৈরি করা হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম। কারণ দেশে গত কয়েক বছরে ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল জালিয়াতির বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। সেজন্য ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে ব্যাংকের লেনদেনের বৈধতা নির্ধারণ, অর্থ জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নসহ অর্থনৈতিক অপরাধ রোধে ইন্টার অপারেটেবল ডিজিটাল প্ল্যাটফরম (আইডিপিপি) তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইডিপিপি বাস্তবায়নে আইনি ও কারিগরি দিকনির্দেশনা তৈরি করতে ইতোমধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকিং সেবা যাতে প্রত্যেক মানুষ উপভোগ করতে পারে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়; সে লক্ষ্য সামনে রেখেই ইন্টার অপারেটেবল ডিজিটাল প্ল্যাটফরম (আইডিপিপি) তৈরির কাজ হচ্ছে। সূত্র আরো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ফিনটেক এবং ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুসিভ আর্থিক সেবাভুক্তির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা-বিষয়ক এক বৈঠকে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম তৈরির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আইডিপিপির মাধ্যমে একটি ইন্টার অপারেটেবল ডিজিটাল ওয়ালেট পরিচালনা করবে; যা বিভিন্ন খাতে সহজে অর্থনৈতিক লেনদেন করতে সহায়তা করবে।

বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ বিষয়ে বলেছেন, সমাজের সবস্তরে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে সেই ঝুঁকি কমবে। ব্যাংকগুলো এখনো পুরোপুরি ডিজিটালাইজড হয়নি। নো ইউর কাস্টমার, এটাকে বলে ইকেওয়াইসি। অর্থাৎ ইলেকট্রনিক নো-ইউর কাস্টমার। এটা আমরা পুশ করছি আইসিটি ডিভিশন থেকে, বাংলাদেশ ব্যাংকে। এই ইকেওয়াইসি যেন তারা প্রবর্তন করে। এখনো কোনো ব্যাংকেই ইকেওয়াইসি প্রবর্তন করা হয়নি। এ ছাড়া যেমন ক্রেডিট রিপোর্ট প্রতিটি ব্যাংকে প্রত্যেক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের একটি করে ক্রেডিট রিপোর্ট থাকতে হবে। এটা যদি অনলাইনে থাকে, তাহলে কেউ লোন নিয়ে আর্থিক জালিয়াতি করতে পারবেন না। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন সুসংহত, ডিজিটালাইজেশন। যেহেতু দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাই আমরা নজর দিচ্ছি ইকেওয়াইসির দিকে। ২০২১ সালে আমরা লেস ক্যাশ সোসাইটির দিকে যাব। ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল, কেনাকাটা বা ই-কমার্সে ডিজিটাল মানি প্রবর্তনের দিকে যেতে চাচ্ছি। এর বাইরে সাইবার সিকিউরিটির দিকে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা আশা করছি, এই ধরনের অব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির মাধ্যমেই মোকাবিলা করা সম্ভব।

জানা যায়, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশের ব্যাংক হিসাব আছে বা তারা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে এই হার ছিল মাত্র ৩১ শতাংশ (গ্লোবাল ফিনডেক্স বা বৈশ্বিক আর্থিক সূচক ২০১৭)। ব্যবহারভোগীর এই বৃদ্ধির পরও ৫৮ মিলিয়ন বা পাঁচ কোটি আট লাখ মানুষের এখনো ব্যাংকে কোনো চলতি বা জমা হিসাব, ইন্স্যুরেন্স পলিসি, ঋণ বা ডিজিটাল পেমেন্টের সুযোগ নেই। এতে করে তারা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাংলাদেশে ৬৫ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে মাত্র ৩৬ শতাংশ নারীর ব্যাংক হিসাব আছে। এই ব্যবধানের হার ২৯ শতাংশ (বৈশ্বিক আর্থিক সূচক)।

 

"