খালি জায়গা পেলেই দালান নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো রকম পরিকল্পনা ছাড়া খালি জায়গা পেলেই দালান (ভবন) নির্মাণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খালি জায়গা পেলে দালান তোলা একটা অসুস্থতার মতো হয়ে যাচ্ছে। এ সময় নতুন বহুতল স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে এলাকার জনঘনত্ব, সড়কে যানবাহনের চাপ ও ধারণক্ষমতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত কয়েকটি প্রকল্পের ধারণা প্রস্তাব দেখার পর এই নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, আবাসিক ভবন নির্মাণের সময় টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে উন্মুক্ত জায়গা, প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, বারান্দা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যেন থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য পানি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে নজর দিতে কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। এখন থেকে গ্যাস ও পানির লাইনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনকেও ভূগর্ভে স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোর তথ্য উপস্থাপন করেন স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির ও সহকারী স্থপতি সায়মা বিনতে আলম।

আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, সচিবালয়ে নির্মাণাধীন ২০ তলা ভবনে মন্ত্রিপরিষদের সভা আয়োজনের সংস্থান, শেরেবাংলা নগরের স্থপতি লুই আই কানের করা মাস্টারপ্ল্যানের ৪৩ একর জমিতে জরাজীর্ণ ভবন অপসারণ করে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় মাল্টিপারপাস সহযোগী ভবন নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে এর মধ্যে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় শেরেবাংলা নগরের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পে লুই আই কানের সহযোগী স্থপতি হেনরি উইলকটকে পরামর্শক অথবা উপদেষ্টা হিসেবে রাখার সুপারিশ করলে প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দেন।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, শেরেবাংলা নগরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ৫১টি ১০ তলা ভবন করা হবে। এসব ভবনে মোট ১ হাজার ৮৩৬টি আবাসিক ফ্ল্যাট থাকবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৪৪৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

সচিবালয়ে নির্মাণাধীন ২০ তলা ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সেখানে মন্ত্রিপরিষদের সভা করার মতো ব্যবস্থা রেখে নকশা চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ তলাবিশিষ্ট ১৫টি ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এসব ভবনে বিভিন্ন আকারের মোট ১ হাজার ১৪০টি ফ্ল্যাট থাকবে। ব্যয় হবে ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে হাতিরঝিল এলাকায় পুলিশ প্লাজাসংলগ্ন ভায়াডাক্ট ১ ও ২-এর পাশে ১ দশমিক ৩ একর জমিতে ২০ তলা একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পদ্মার পাড়ে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনির অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (জোন-এ) প্রকল্পের পরিবর্তিত মাস্টারপ্ল্যান, সচিবালয়ে নির্মাণাধীন ২০ তলা ভবনে মন্ত্রিপরিষদ সভা আয়োজনের সংস্থান রাখা, শেরেবাংলা নগরে স্থপতি লুই আই কান প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের ৪৩ একর জমিতে জরাজীর্ণ দ্বিতল ভবন অপসারণ করে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ধারণাগত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় মাল্টিপারপাস সহযোগী ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পরিকল্পনা উপস্থাপনা করা হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রী খেলার মাঠ, জলাধার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনগণ ও রাস্তায় গাড়ির চাপ, আবাসিক ভবনে ন্যাচারাল ভেন্টিলেশনসহ বিভিন্ন বিষয়কে মাথায় রেখে সুপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন প্রকল্প নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সুপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করতে সাধারণ দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

শেরেবাংলা নগরে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী খ্যাতনামা স্থপতি লুই আই কানের সহযোগী স্থপতি হ্যানরি উইলকটকে এ প্রকল্পে বিদেশি পরামর্শক অথবা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থাপত্য অধিদফতরের সদ্য সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, স্থাপত্য অধিদফতরের সহকারী স্থপতি সায়মা বিনতে আলম, হাতিরঝিল প্রজেক্টের কনসালট্যান্ট এআর প্যাট্রিক ডি রোজারিও পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।

 

 

"