সংসদে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

রাজধানীর চাহিদা মিটিয়ে ১০ কোটি লিটার পানি উদ্বৃত্ত

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত মানুষের দৈনিক পানির চাহিদার পরিমাণ ২২০ থেকে ২৪৫ কোটি লিটার। তবে, ঢাকা ওয়াসা দৈনিক চাহিদার চেয়ে ১০ কোটি লিটার উদ্বৃত্ত উৎপাদন করছে। অর্থাৎ ২৫৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে ওয়াসা। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে হাজী মো. সেলিমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এদিন বিকেলে অধিবেশন শুরু হয়। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পানির সিস্টেমলস ২০ শতাংশ। তবে, ঢাকা মেট্রো এলাকায় সিস্টেমলস (ডিএমএ) মাত্র ৫-৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগে ৪০ ভাগ পর্যন্ত ছিল। ডিএমএ পদ্ধতি বর্তমান সরকারের সময়ে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা ১৪৪টি ডিএমএর মধ্যে ৬২টি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ডিএমএর কাজ চলমান রয়েছে; আগামী ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ ডিএমএর আওতায় আসবে। তিনি বলেন, সিস্টেমলস কমানোর জন্য সরকার সব পানির পাইপলাইন পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ডিএমএ পদ্ধতি চালু করেছে। চলতি বছরের মধ্যে সব বস্তিবাসী বৈধ পানি সরবরাহের নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কার্যক্রম নিয়েছে।

এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, এলজিইডির সহায়তায় ভূমিহীন এবং অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২৬৬ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাসস্থান কাজ গত বছরে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ওই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ১০৪টি বাসস্থান নির্মাণ করেছে।

মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সারা দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহের অর্জিত কাভারেজ ৮৭ শতাংশ। দেশের শতকরা ৮৭ জন মানুষ নিকটবর্তী উৎস থেকে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করে থাকেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক ২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ পানির কাভারেজ ১০০ শতাংশ (প্রতি ৫০ জনের জন্য একটি উৎস) নিশ্চিত করা হবে। দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়ন ও যানজট নিরসনে ঢাকা সিটি মেয়রের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল কাজ করছে। নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক গত ছয় বছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। আর বাংলাদেশ আর্সেনিক মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের অধীন মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, লবণাক্ততা ও আয়রনপ্রবণ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পানির উৎস ও ৩৭টি রুরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম নির্মাণ করা হয়।

বেগম রতœা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে জমির জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পানি সংরক্ষণ, সেচসুবিধা ও সেচ এলাকা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ডে নির্ধারিত কমপরিকল্পনা অনুযায়ী বছরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

শহীদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক জবাবে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার প্রশ্নত্তরে ডেঙ্গু বিষয়ে পদক্ষেপগুলো ব্যাপকভাবে বর্ণনা করেছেন। ওনার (পিএম) নির্দেশে ২৫ জুলাই থেকে ইউনিয়ন থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত মশা নিধনে ক্রাশ গ্রোগ্রাম শুরু করি, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

হাবিব রহমানের সম্পূরক জবাবে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, যদি কোনো রাস্তায় দায়িত্বে অবহেলা কিংবা দুর্নীতির কারণে নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকে, তাহলে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রুমিন ফারহানার সম্পূরক জবাবে মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, নীতিনির্ধারণী এমপিদের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দেওয়া-সংক্রান্ত এই প্রশ্নটি কেন করা হয়। বাইরেও এ ধরনের প্রশ্ন শুনি। এমপিরা উপদেষ্টা থাকলে কাজে স্বচ্ছতা ফেরবে এবং কাজের মান ভালো হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবদান রাখলে শিক্ষার মান ভালো হয়।

আফসারুল আমিনের সম্পূরক প্রশ্নে মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামের দুটি রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে রাস্তাটির মেরামত করা হচ্ছে।

 

 

"