পদ্মা সেতু

মাওয়া প্রান্তে শুরু হচ্ছে নদী শাসন

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে নদী শাসনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। মাওয়ার উজানে পুরোনো ফেরিঘাট এবং পাশের কান্দিপাড়া মসজিদ বরাবর এলাকায় এই কাজ হচ্ছে। কান্দিপাড়া মসজিদ বরাবর এলাকায় থেকে ‘ইন টার্মিনেশন’ বা বড় একটি বাঁক হবে। নদী শাসনের জন্যই বাঁকটি করা হবে। সেই লক্ষ্যে এই এলাকায় এরই মধ্যে ২৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণ করা এলাকার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার কাজও শেষ পর্যায়ে।

পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী জানান, নানা কারণে মাওয়া প্রান্তে নদী শাসনের কাজ জরুরি হয়ে পড়েছে। আর তাই আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে নদী শাসনের কাজ চলবে। মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসন প্রকল্পের আওতায় রক্ষা বাঁধ তৈরি করা হবে। সেই লক্ষ্যে ড্রেজিং করা হবে। এরপর ফেলা হবে বালুর বস্তা। নদী তীরে স্লভ তৈরি করা হবে। এরপরই ফেলা হবে ব্লক। মাওয়া প্রান্তের উজান থেকেই এই নদী শাসনের কাজ শুরু হবে। আসন্ন শুষ্ক মৌসুমেই মাওয়া প্রান্তের নদী শাসনের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে জাজিরা প্রান্তে ১১ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় রক্ষা বাঁধ পদ্মা সেতুর নদী শাসন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এরই মধ্যে ছয় কিলোমিটার এলাকায় রক্ষা বাঁধ তৈরি হয়েছে। বাকি রয়েছে আরো পাঁচ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকার রক্ষাবাঁধ। এর মধ্যে কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট এলাকায় এক কিলোমিটার এবং কাওড়াকান্দি ফেরিঘাট এলাকায় এক কিলোমিটার এলাকা। এই দুই ফেরিঘাটের দুই কিলোমিটার বাদে বাকি তিন কিলোমিটার এলাকায় রক্ষা বাঁধও আগামী শুষ্ক মৌসুমে করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকৌশলী জানান, পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই সময়ে প্রায় ৬৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। টার্গেটের কাছাকাছি রয়েছে বলে তিনি জানান। শুষ্ক মৌসুমে নদী শাসনের কাজ অনেক এগিয়ে যাবে। কাজের গতি অপেক্ষাকৃত বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান বসছে চলতি মাসেই। বর্ষায় পলি জমে যাওয়ার কারণে নাব্যের অভাবে স্প্যানবাহী জাহাজ প্রবেশ করতে পারছে না বলে বিলম্ব হচ্ছে। তবে ড্রেজিং করে নাব্য ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে নাব্য সংকট দূর করা সম্ভব হচ্ছে বলে ধারণা করছেন এই প্রকৌশলী। শিগগিরই ২০ ও ২১ নম্বর খুঁটিতে রাখা স্প্যানটি সরিয়ে এনে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে ২৪ ও ২৫ নম্বর খুঁটিতে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় এই দুই খুঁটি তখন প্রস্তুত না থাকায় ২৪ ও ২৫ নম্বর খুঁটির নির্দিষ্ট স্প্যানটি সেখানে (২০ ও ২১ নম্বর খুঁটিতে) বসানো হয়েছিল। এদিকে ১৫তম স্প্যান বসানো হচ্ছে ২৩ ও ২৪ খুঁটিতে। এছাড়া ১৬ ও ১৭ খুঁটিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরপরই ১৬তম স্প্যান বসবে এই দুই খুঁটিতে। সেতুর ৪২টি খুঁটির মধ্যে ৩১টি সম্পন্ন হওয়ায় বাকি রয়েছে মাত্র ১১টি খুঁটির। সেতুগুলোর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে দায়িত্বশীল প্রকৌশলী জানিয়েছেন। সেতুর ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১ ও ৩২ নম্বর খুঁটিতেই এখন কর্মযজ্ঞ চলছে। জাজিরা প্রান্তে সেতুর ২৪টি সুপার টি বসে গেছে। আর ৪২টি আই গার্ডারের সবক’টিই বসেছে। রেলওয়ে স্লাব বসেছে ৩২২টি। রোডওয়ে স্লাব বসেছে ৩৯টি। স্প্যানে বসানোর পরে স্লাবগুলো বসানোর কাজ চলছে। সেতুতে রেলওয়ে সøাব প্রয়োজন ২৯৫৯টি। তার মধ্যে ৯৭টি বাকিমাত্র। ২ হাজার ৮৬২টি স্লাবই নির্মাণ হয়ে গেছে। সেতুতে রোডওয়ে স্লাবের প্রয়োজন ২ হাজার ৯১৭টি। যার মধ্যে অর্ধেক তৈরি হয়েছে।

সেতু দুই পাশের প্রায় তিন কিলোমিটার সংযোগ সেতুর (ভায়াডাক্ট) খুঁটির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জাজিরা প্রান্তের একটি মাত্র খুঁটির পিয়ার হেড বাকি রয়েছে। রেলওয়ে এবং রোডওয়ে ও কম্পাটমেন্টসহ ৪৬টি খুঁটির সবই সম্পন্ন হয়েছে। মাওয়া প্রান্তে বাকি রয়েছে ১৭টি খুঁটির পিয়ার হেড। এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করা বিদ্যুৎ টাওয়ারের কাজও এগিয়ে চলেছে। ৭ ও ৮ নম্বর বিদ্যুৎ টাওয়ারে এই পাইল বসছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং সংযোগ সেতুসহ প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। আশা করা হচ্ছে, ২০২১ সালের জুনের মধ্যেই পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করবে।

"