আজ পবিত্র আশুরা

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ মঙ্গলবার পবিত্র আশুরা। ইসলামী পরিভাষায় মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। মহররম হলো চন্দ্রবর্ষের প্রথম মাস। মহররম অর্থ অধিক সম্মানিত। সৃষ্টির শুরু থেকে মহররমের ১০ তারিখ, তথা আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ফলে আশুরা মর্যাদাবান ও মাহাত্ম্যপূর্ণ এবং স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েছে। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয় মুসলিম বিশ্বে। বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় ও কর্মসূচিতে পবিত্র আশুরা পালন করা হচ্ছে। আগে মুসলমানদের জন্য আশুরার রোজা ফরজ ছিল। দ্বিতীয় হিজরিতে শাবান মাসে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়। তবে নফল রোজার মধ্যে আশুরার রোজা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। (সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, দারেমি ও মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.)। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি।

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এ আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।

এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ হোসেনি দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর বড় কাটারা ইমামবাড়া, খোজা শিয়া অনুসারী ইমামবাড়া এবং বিবিকা রওজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হবে।

ডিএমপি কমিশনার জানান, তাজিয়া মিছিলে ঢোল বাজিয়ে দা, ছুরি, তলোয়ার ও লাঠিখেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এসব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিছিলে ব্যাগ, পোঁটলা, টিফিন ক্যারিয়ার বহন করা যাবে না। মাঝপথে কেউ মিছিলে অংশ নিতে পারবেন না।

গড়পাড়া ইমামবাড়িতে ১০ দিনের কর্মসূচি : মানিকগঞ্জের শতাব্দী প্রাচীন গড়পাড়া ইমামবাড়ি এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র আশুরা উদ্যাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আশুয়া উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে গড়পাড়া ইমামবাড়ি। যা মহররমের প্রথম দিন থেকে (১ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে। হজরত ইমাম হোসেনের শেষ মঞ্জিলের নকশা ‘তজিয়া, তার নিজের ব্যবহার করা ঘোড়া ‘দুলদুল’ ও কারবালাযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী নিশানসমেত মিছিল আজ বিকাল ৩টায় শুরু হবে। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন ও কারবালার প্রান্তরে শহীদ ৭২ পুণ্যাত্মা স্মরণে শোক র‌্যালিটি ইমামবাড়ি থেকে বের হয়ে মানিকগঞ্জ শহর প্রদক্ষিণ করে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে গিয়ে অবস্থান নেবে। সেখানে ইফতার ও মাগরিবের নামাজের পর আশুরার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মর্যাদা সম্পর্কে এক শোকসভা হবে। গড়পাড়া ইমামবাড়ি দরবার শরিফের পীর ও বাংলাদেশ পাক পাঞ্জাতন অনুসারী পরিষদের সভাপতি শাহ্ মোখলেছুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

এ ছাড়া বিশ্বমানবতা ও শান্তির অগ্রদূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেনের আত্মত্যাগের কথা প্রচারের জন্য ইমামবাড়ি থেকে ২৮টি কাসেদের দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বের হয়েছেন। ঢাকা জেলার একাংশ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনা, রাজশাহী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও নাটোর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে কাসেদের দলগুলো ইমামবাড়িতে সমবেত হবে।

 

"