সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উত্তর-পূর্ব করিডর

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য মহাসড়কের দুই পাশে শিল্প করিডর স্থাপন করতে চলেছে। সম্ভাব্য কয়েকটি রুট বিবেচনায় নিয়ে এরই মধ্যে এ পরিকল্পনার অনুমোদনও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম নর্থ-ইস্ট শিল্প করিডর। ৯ জেলা নিয়ে করা এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে ২০২০ সালের মার্চ মাসে। এগুলো হচ্ছে সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ। নর্থ-ইস্ট শিল্প করিডরের জন্য এ জেলাগুলো এক করা হয়েছে। তবে এগুলো নিয়ে আরো অনেক কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে বেশকিছু বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে। কোনদিক দিয়ে পথ নিলে বেশি সুবিধা হবেÑ তা বিবেচনায় নিতে হবে। ভারত এবং মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়েই এ করিডর করা হবে। এরই মধ্যে নর্থ-ইস্ট করিডর নিয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাথমিক কাজসহ পরামর্শক নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছে। শিল্প করিডর স্থাপন কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বিডা সরেজমিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিক ধারণা নিয়েছে নর্থ-ইস্ট করিডরের বিষয়ে। রেল, সড়ক, নৌ ও আকাশ পথের সমন্বয়ে কীভাবে একটা উন্নত শিল্প করিডর গড়া যায় এ বিষয়ে প্রথমিক ব্যয়ও প্রাক্কলন করা হয়েছে। বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্র জানায়, বাংলাদেশ নর্থ-ইস্ট ইকোনোমিক করিডর বাস্তবায়নে ১ লাখ কোটি টাকা লাগবে। এক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

এসব জেলায় শিল্প উন্নয়ন, অবকাঠামোগত কাজের আধুনিকায়ন, নগরায়নের পাশাপাশি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তার কাজও করতে হবে। এ করিডরে একটি ফোরলেন সড়ক হবে তামাবিল স্থলবন্দর হয়ে সিলেট-হবিগঞ্জ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নরসিংদী-নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। অপরটি হবে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর হয়ে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ-গাজীপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। নর্থ-ইস্ট করিডরে সড়কের পাশে সিলেট, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্ভাবনাময় আধুনিক শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে নতুন করে।

সমন্বিত রেল, নদী, সমুদ্র, বিমানবন্দরগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার মানুষের মধ্যে সেতু বন্ধন গড়তে হবে। এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করতে প্রস্তুত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। করিডর বাস্তবায়নে প্রাথমিক টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছে এডিবি।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, নর্থ-ইস্ট করিডর নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এর ফাইনাল রিপোর্ট সাবমিশন হবে ২০২০ সালের মার্চ মাসে। নর্থ-ইস্ট করিডরের জন্য একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। নৌ-সড়ক-রেল-আকাশপথের সমন্বিত উন্নয়ন করতে হবে। নর্থ-ইস্ট করিডরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্পে অর্থায়ন করতে প্রস্তুত এডিবি।

যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর, ঢাকা, নড়াইল, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ নিয়ে সাউথ-ইস্ট করিডর গঠিত হয়েছে। এ করিডরের আউটপুটও বের করা হয়েছে। এটা বাস্তবায়িত হলে ২০২২ সালে ২১ থেকে ২৪ এবং ২০৫০ সালে ১৪৮ বিলিয়ন ডলারের আউটপুট পাবে বাংলাদেশ। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ২০২৫ সালে ৫ মিলিয়ন এবং ২০৫০ সালে ২৫ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। একইভাবে মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরাসরি অবদান রাখবে বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডর। সাউথ-ইস্টের মতোই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নর্থ-ইস্ট করিডরও অবদান রাখবে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমাদের বসে থাকলে হবে না। এখনই নর্থ-ইস্ট করিডর নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রধান সমস্যা দারিদ্র্য। আমি মনে করি নর্থ-ইস্ট করিডর বাস্তবায়নে দারিদ্র্য নির্মূল হবে। এ করিডরকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এডিবি টাকা দেওয়ার জন্য বসে আছে। আপনাদের বলব, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প নিয়ে আসেন। আমরা সবাই মিলে করিডরগুলো বাস্তবায়ন করি।

 

"