যুক্তরাজ্যের সেমিনারে বক্তারা

উন্নয়নের সূচকে অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আত্মবিশ্বাসী একটি জাতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেমন বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন; তেমনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছেন। উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য অভাবনীয়। উন্নয়নের এ স্বর্ণযুগের চলমান প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে উত্তর আয়ারল্যান্ড। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টাডি সার্কেল আয়োজিত ‘বাংলাদেশ; এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন উত্তর আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য মার্টিন ও মোয়েলার। গতকাল রোববার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানা গেছে।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শুধু তাদের জীবনই বাঁচায়নি, মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত বৃহস্পতিবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট অ্যাসেম্বলির স্টরমনট বিল্ডিংয়ের লং গ্যালারিতে উত্তর আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য মার্টিন ও মোয়েলার, ক্রিস লিটল, মাইক নেসবিট এবং স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপারসন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে অনুষ্ঠিত হয় স্টাডি সার্কেলের এ সেমিনার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্যানেল স্পিকার ছিলেন লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জুলকার নাইন, নর্দান আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য মার্টিন-ও-মোয়েলার, সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক,

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ ও জিম ওয়েলস এমএলএ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল বাংলাদেশের উন্নয়নের বিগত ১০ বছরের সাফল্য নিয়ে আলোচনা। এতে প্রাধান্য পায় স্টাডি সার্কেলের পরিচিতি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জেন্ডার সমতা, রোহিঙ্গা সমস্যা, আইন ও বিচার ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতসহ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসমূহ।

স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপারসন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর পরিচালনায় আলোচনার শুরুতে নর্দান আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য জিম ওয়েলস এমএলএ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলদেশ এখন বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল নক্ষত্ররূপে আবির্ভূত। বাংলাদেশের অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং যাত্রা সম্পর্কে আমাদের জানার অনেক কিছু রয়েছে। এমন আয়োজন বাংলাদেশকে জানতে এবং পরিচয় করিয়ে দিতে আরো সহায়ক হবে।

স্টাডি সার্কেলের গবেষক সাজিয়া স্নিগ্ধা নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতায় বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি নারীর সামর্থ্য উন্নীতকরণ, নারীর অর্থনৈতিক প্রাপ্তি বৃদ্ধীকরণ, নারীর মতপ্রকাশ ও মতপ্রকাশের মাধ্যম সম্প্রসারণ এবং নারী উন্নয়নে পরিবেশ সৃষ্টীকরণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকার এবং সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসমূহ তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’-এর অনেকগুলো লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে অতি দরিদ্র অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে কাজ করেছে। দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত ‘রূপকল্প-২০২১’ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে যাত্রা করে।

ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ জুলকার নাইন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে আইনের সুশাসনে বর্তমান বিচার ব্যবস্থার যুগান্তকারী কাজের কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাম্মী আহমেদ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ ভয়ার্ত রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে মানবিকতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের সৈকতে যারা পালিয়ে এসেছিল তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল শিশু। তাদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, বাসস্থানের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার সুব্যবস্থা বাংলাদেশ করেছে। পাহাড়ি বনভূমি উন্মুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়শিবির। কিন্তু রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো চাপ দেওয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নানা আলাপ-আলোচনা হচ্ছে কিন্তু উদ্যোগের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলকে আরো সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ছিল প্রশ্ন-উত্তর সেশন। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য সম্পর্কে প্যানেল স্পিকারদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। যার মাঝে উল্লেখযোগ্য ব্রেক্সিট-পরবর্তী নরথান আয়ারল্যান্ডের অবস্থা, এমডিজি সফলতায় বাংলাদেশ, বাংলাদেশের এসডিজি প্ল্যানিং, রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতা, স্টাডি সার্কেলের কাজের পরিধি ইত্যাদি। পরিশেষে জামাল খান, সেলিম খান, আলা উদ্দিনের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সবার হাতে বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাটের তৈরি ব্যাগে স্টাডি সার্কেলের প্রকাশনা ‘বাংলাদেশ এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট’, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইংরেজি ভার্সন এবং স্টাডি সার্কেলের সুভেনিওর প্রদান করা হয়।

সেমিনারে নর্দান আয়ারল্যান্ড অ্যাসেম্বলির মেম্বারসহ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, কূটনীতিকবৃন্দ, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং লন্ডন কমিউনিটির ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবী বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

"