ঢাকায় সিসিটিভি কাগজে কলমে

অনেক স্থানে থাকলেও নেই সংযোগ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীকে নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলতে সড়কগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি দুই বছরেও। ‘ডেভেলপমেন্ট অব ঢাকা সিটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ নামের পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এই প্রকল্পটি আটকে আছে কাগজে কলমে। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দাবি, কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থা স্বল্প পরিসরে কয়েকটি ক্যামেরা বসিয়েছে। কিন্তু বসানো সিসিটিভির অধিকাংশই বিকল। আবার অনেক স্থানে ক্যামেরা থাকলেও নেই সংযোগ। এ অবস্থায় সিসিটিভি বসানোর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে নগরবাসী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংরক্ষণ আর যথাযথ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ না করলে একদিকে যেমন অপরাধপ্রবণতা কমানো যাবে না, তেমনি এর সুফলও পাবে না ঢাকাবাসী।

জানা যায়, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা খুনের মতো বহু অপরাধের কূলকিনারা উদ্্ঘাটিত হয়েছে সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরেই। শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাইরেও অপরাধী ধরতে এই ক্যামেরা সহায়তা করেছে পুলিশ বাহিনীকে।

নাগরিক নিরাপত্তা বিধানে পুরো রাজধানীকে এই নিরাপত্তা চোখের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছিল পুলিশ সদর দফতর। সূত্র বলছে, দুই বছর আগের সেই উদ্যোগ এখনো আলোর মুখ দেখেনি। কথা ছিল ওই প্রকল্পের আওতায় রাজধানীতে বসছে ৫০ হাজার ক্যামেরা।

রাজধানীতে বর্তমানে যতগুলো ক্যামেরা আছে, সেগুলোর বেশির ভাগই বসিয়েছে বিভিন্ন এলাকার সোসাইটি বা নানা সংস্থা। যেমনÑ উত্তর সিটিতে আছে প্রায় এক হাজার ক্যামেরা। তবে সেটি ডিএমপি বা পুলিশ সদর দফতরের নয়।

সম্প্রতি সায়েন্স ল্যাবে পুলিশের ওপর যেখানে হামলা চালানো হয়, সে রাস্তায় পাওয়া যায়নি কোনো সিসি ক্যামেরা। একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তার ভবনে সিসি ক্যামেরা বসালেও সেটির মুখ রয়েছে সড়কের উল্টো দিকে। একইভাবে কিছুদিন আগে ফার্মগেটে যে হামলা চালানো হয়, সে রাস্তাতেও পাওয়া যায়নি সিসি ক্যামেরা। যদিও ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, ইতোমধ্যেই নগরীর অনেক এলাকাই সিসি টিভির আওতায়।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরো রাজধানীকেই আনা উচিত সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায়। এক অপরাধ বিশ্লেষক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে মানুষ সুবিধা পাবে, দুর্নীতিও কমবে। এ ছাড়া মানুষ স্বস্তি পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে অলিগলিতে এলাকাভিত্তিক ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা।

গত বছরের ৮ অক্টোবর রাজধানীর টিকাটুলিতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তালহা খন্দকার। রাস্তার পাশের ভবনের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ছিনতাইকারীদের ছবি। এ ফুটেজের ওপর ভিত্তি করেই অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। শুধু ছিনতাইয়ের ঘটনায় নয় সন্ত্রাসী কর্মকা-সহ চাঞ্চল্যকর অনেক খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে প্রধান ভূমিকা রেখে আসছে যান্ত্রিক এ চোখ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে লাগানো হয় সিসি ক্যামেরা। কিন্তু অযতœ আর অবহেলায় অধিকাংশই এখন বিকল হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার নিশ্চিতে যে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, সেগুলো নিজেই এখন পড়েছে নিরাপত্তা হুমকিতে। কোনোটি হেলে পড়েছে, কোনোটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন, আবার চুরি হয়েছে কোনোটি।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অপরাধী শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সিসিটিভি। তাই বিকল ক্যামেরাগুলো সচল ও ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নজর দেওয়া উচিত এর সঠিক ব্যবস্থাপনায়। অবশ্য এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

রাজধানীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ২০০৯ সাল থেকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয় ডিএমপি। ডিএমপির হিসাব অনুযায়ী রাজধানীতে এখন ছয় হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গুলশান ও লালবাগের দুটি কেন্দ্র থেকে।

 

"