রংপুরে প্রার্থী সাদ

আপাতত ভাঙন থেকে রক্ষা পেল জাতীয় পার্টি

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই শীর্ষ নেতার বিরোধে বিভক্ত জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই পক্ষ। ঠিক হয়েছে প্রয়াত নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ‘নির্দেশনা’ অনুযায়ী তার ভাই জি এম কাদেরই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। আর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে থাকবেন এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ। আর এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনে প্রার্থী হবেন এরশাদপুত্র সাদ এরশাদ। গতকাল রোববার দলের বনানীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলটির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। বলা যায়, আপাতত একটা বড় ধরনের ভাঙন থেকে রক্ষা পেল জাতীয় পার্টি। এদিকে, গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বেগম রওশন এরশাদের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছে জাতীয় পার্টি। সংসদীয় দলের সভা শেষে সন্ধ্যায় স্পিকারের কাছে এই চিঠি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, বেগম রওশন এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা করার জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম কাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আমাদের দলের ২৫ জন এমপি স্বাক্ষর করেছেন। আমরা সর্বসম্মতভাবেই এই চিঠি দিয়েছি।

রাঙ্গা বলেন, প্রথমে আমাদের যে বিষয়টি ছিল, সেটি হলো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কে পালন করবেন। এটা নিয়ে একটি বিতর্ক ছিল। সেটি গত শনিবার রাতে সমাধান হয়ে গেছে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশিত যিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলের দায়িত্ব পালন করবেন চেয়ারম্যান হিসেবে এবং বেগম রওশন এরশাদ, যিনি আমাদের চেয়ারম্যানের পতœী, তিনি সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করবেন।

রাঙ্গা বলেন, আরেকটি বিষয় এসেছিল রংপুরের উপনির্বাচন নিয়ে। সেখানে সাদ এরশাদের (এরশাদের ছেলে) পক্ষে প্রস্তাব রাখা হয়েছিল, বিপক্ষেও কথা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে মহাসচিব প্রার্থী হবেন সাদ এরশাদ। গতকাল দুপুরে সংসদ ভবনে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠক বসে। বৈঠকের পর বিরোধীদলীয় নেতা নির্ধারণের বিষয়ে স্পিকারকে নতুন করে চিঠি দেওয়া হয় পার্টির পক্ষ থেকে। পরে বিরোধীদলীয় নেতাই সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নির্ধারণ করেন।

জাতীয় পার্টি রক্ষা পেয়েছে : পদ-পদবি নিয়ে দুই শীর্ষ নেতার বিরোধে গত কয়েক দিন ধরে জ্যেষ্ঠ নেতারা যখন পাল্টাপাল্টি বৈঠক আর সংবাদ সম্মেলন করে আসছিলেন, দলের মহাসচিব রাঙ্গা ছিলেন দৃশ্যের বাইরে। কয়েক দিন আগেও জি এম কাদেরের পাশে থেকে রাঙ্গা বলেছিলেন রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে তিনি তৃতীয় পক্ষের চক্রান্তের আভাস পাচ্ছেন। কিন্তু রওশন সমর্থকরা দাবি করেন মহাসচিব রাঙ্গা তাদের সঙ্গেই আছেন। রওশনের সঙ্গে তার ফোনে কথাও হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রওশনকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিম-লীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদও বলেন, রাঙ্গাই তাদের থাকছেন মহাসচিব। কিন্তু রাঙ্গার ওই পক্ষে শুনে জি এম কাদেরও অবাক হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো জানি তিনি বিআরটিএ’র মিটিংয়ে। তিনি কী বলেছেন, আমি শুনিনি। আগে জানতে হবে।

অস্পষ্ট এই অবস্থান নিয়ে রাঙ্গার বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা নানাভাবে চেষ্টা করেও তার নাগাল পাচ্ছিলেন না। শনিবার পর্যন্ত তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি ফোনও ধরেননি। এই পরিস্থিতিতে রাঙ্গার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগেরমাধ্যমেও অনেকে রসিকতা করে বিভিন্ন টিপন্নি কাটেন।

রাঙ্গা বলেন, পরিবারের পিতামাতা যখন বিবাদে জড়ান তখন সন্তানরা বিপদে পড়েন। দলে বড় ভাই হিসেবে আমি কিছুটা সরে পড়েছিলাম। তবে গত তিন দিনে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করে শনিবার বৈঠক করেছি। একটা বড় ধরনের ভাঙন থেকে জাতীয় পার্টি রক্ষা পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, এরশাদের মৃত্যুর পর জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন যদিও তাতে রওশনের আপত্তি ছিল। রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে তাদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। রওশনের ছেলে সাদ এরশাদ বাবার আসনে প্রার্থী হতে চাইলেও রংপুরের নেতারা তার বিরোধিতায় নামেন। এর মধ্যে জি এম কাদের তাকে বিরোধীদলীয় নেতা ঘোষণা করতে গত সপ্তাহে স্পিকারকে চিঠি দিলে পাল্টা চিঠিতে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রওশন।

জি এম কাদের আবার নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা তার বলে দাবি করেন। প্রার্থী মনোনয়নে রওশন আবার পাল্টা সংসদীয় বোর্ড গঠন করেন। এরপর রওশনের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তার সমর্থকরা তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন। জি এম কাদের ও রওশনের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে দলের শীর্ষনেতারা দুই ভাগ হয়ে যান, কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি। এ অবস্থায় গত শনিবার রাতে বারিধারার ক্লাবে বৈঠকে সমঝোতায় আসে দুই পক্ষ।

 

"