গাজীপুরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে কেউ রুখতে পারবে না

সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার পরিদর্শন

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

গাজীপুর প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে বিস্ময়। আমাদের মাথাপিছু আয় এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন হচ্ছে। পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে দেশ। এ দেশ এগিয়ে যাবে, কেউ রুখতে পারবে না। গতকাল শনিবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীর ভূমিকা ও সচেতনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী এ সময় গাজীপুর সিটির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর এবং ফলক উন্মোচন করেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন এই দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার; স্বপ্ন দেখেছেন দারিদ্র্য থাকবে না, অন্যায়-অবিচার থাকবে না। সেই স্বপ্নপূরণের জন্য আজীবন লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলন করেছেন। জেল, জুলুম, অত্যাচার ভোগ করে বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। সেই লড়াই-সংগ্রামের একপর্যায়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মানুষ বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগকে এককভাবে ভোট দেয়। তিনি শুরু করেন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয় একটি কুচক্রী মহল।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশ পরিচালনা করেছে। ফলে বাংলার মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। নির্যাতিত হয়েছে। দেশের মানুষকে ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করা হয়েছে। এ ধরনের একটি ক্রান্তিÍকালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নির্যাতিত-নিপীড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করেন। মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই-সংগ্রাম গড়ে তোলেন।

তিনি বলেন, কিন্তু শেখ হাসিনাকেও বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়। একুশে আগস্ট বোমা হামলা করা হয়। কিবরিয়া সাহেব, আহসান উল্লাহ মাস্টার ও মমতাজ উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। বাংলাভাই সৃষ্টি করে তার মাধ্যমে মানুষকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়। দেশে একটি বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। এমন অবস্থায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষ আবার জেগে ওঠে। ক্ষমতাসীনদের দুঃশাসন, অত্যাচার, নির্যাতন ও খুনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় জনতা। পরে মইনুদ্দীন-ফখরুদ্দীনের তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকার নতুন করে আবির্ভাব হয়ে দেশকে একটি ক্ষয়িষ্ণু দেশে রূপান্তরিত করে। দেশের মানুষ আবার প্রতিবাদ-আন্দোলন গড়ে তোলে। ২০০৮ সালে জনগণ ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার দেশ এগিয়ে চলে সমৃদ্ধির পথে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বে বিস্ময়। এ দেশ এগিয়ে যাবে, কেউ রুখতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা সার্বিক উন্নয়নে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আমি আশা করি গাজীপুর একটি অনন্য নগরীতে পরিণত হবে। এই সিটি করপোরেশনকে আমরা একটি স্মার্ট সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত করার চিন্তা করছি। এরই মধ্যে বিদেশি বেশ কয়েকটি সংস্থা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। গাজীপুরে যেসব সুযোগ আছে, তা কাজে লাগিয়ে সারা দেশে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারব।

গাজীপুর সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শামসুন নাহার ভূঁইয়া, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আখতারউজ্জামান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন প্রমুখ। এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াজ উদ্দীন মিয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ স্থানীয় নেতারা।

সভা উপলক্ষে রাজবাড়ির মাঠ ও এর আশপাশ এলাকা বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। দুপুরের পর থেকেই সিটি কপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নগরবাসী মিছিল সহকারে সভাস্থলে আসেন। একপর্যায়ে আলোচনা সভাটি জনসভায় রূপ নেয়। পরে একই মঞ্চে অনুুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎসহ স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।

সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার পরিদর্শন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গতকাল দুপুরে রাজধানীর ধলপুরে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-১ ও ফেজ-২ পরিদর্শন করেছেন। মন্ত্রী এ সময় প্রস্তাবিত সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩-এর জন্য নির্ধারিত জায়গাও ঘুরে দেখেন।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম এবং ঢাকা ওয়াসা ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম আরো আধুনিক ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম জনগণের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরারও পরামর্শ দেন।

"