আওয়ামী লীগে শোকজের মুখে ১৫০ নেতা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

কাইয়ুম আহমেদ

চলতি বছরে হয়ে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করায় অন্তত দেড় শ নেতাকে শোকজ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তৃণমূলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে স্থানীয় রাজনীতিতে ঐক্যের বিকল্প নেই বলে মনে করছে দলটি। এছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে-বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে তা নিরসনের উদ্যোগ আগে থেকেই নেয় ক্ষমতাসীন দলটি। ফলে উপজেলা নির্বাচনে দল মনোনীতদের বিপক্ষে কাজ করায় আজ রোববার ১৫০ জনের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস দিচ্ছে দলের হাইকমান্ড।

দলীয় সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে স্থানীয় রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে এসেছে। ওই নির্বাচনে ৪৭৩টি উপজেলার নির্বাচনে ১৪৯টিতে চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর মধ্যে ১৪৩ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ ছিল আওয়ামী লীগ। এমন আরো অনেক উপজেলা রয়েছে, যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও স্থানীয় কোন্দলের বিষয়টি জোরেশোরে উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তৃণমূলের দ্বন্দ্ব দলটিকে বেশ ভাবিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর একজন সদস্য জানান, আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব কাটিয়ে দলে সুশৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরো সুদৃঢ় করার জন্য আটটি বিভাগে আটটি টিম কাজ করে। এসব টিম জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বর্ধিত সভা করে।

দলের বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, তৃণমূলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে স্থানীয় রাজনীতিতে ঐক্যের বিকল্প নেই বলে মনে করছে দলটি। এজন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি এই বিষয়ে কড়া নির্দেশনা রয়েছে যেকোনো মূল্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের। দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে সংগঠিত ঐক্যবদ্ধ তৃণমূল দেখতে চায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।

উপজেলা নির্বাচন ও নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, রাজনীতি করতে গেলে যেমন দ্বন্দ্ব থাকবে আবার তার সামাধানও হবে। এটি রাজনৈতিক দলের একটি প্রক্রিয়া। তবে দ্বন্দ্বের কারণে দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে কাজ করা অন্যায়।

তৃণমূলে দ্বন্দ্ব নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন ইউনিটে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা-জেলা পর্যন্ত সংগঠনের যে ভালো দিক আছে সেগুলো আলোচনায় নিয়ে থাকছে। পাশপাশি যেসব নেতিবাচক ও দুর্বল দিকগুলো আমাদের ভুল-ভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে সেগুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় মনোনয়নকৃত প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। নিজেদের মধ্যে ছোট-খাটো দ্বন্দ্ব কোন্দল লক্ষ্য করা গেছে। এগুলো সমাধানের লক্ষ্যেই চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ রোববার থেকে এই শোকজ নোটিস সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হবে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল শনিবার এক সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় যারা দলের প্রার্থী ও দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছিল তাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। আজকে সেটা বাস্তবায়নের প্রসেস কীভাবে দ্রুত করা যায় সেটা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আজ থেকে ১৫০টির মতো শোকজ নোটিস তৈরি হবে। শোকজের জবাবের জন্য সংশ্লিষ্টদের তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, বিদ্রোহী হতে দলের যারা জ্যেষ্ঠ নেতা, কেন্দ্রীয় নেতা বা সংসদ সদস্য-মন্ত্রী মদদদাতার ভূমিকায় ছিলেন তাদের শোকজ করা হবে।

ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বি এম মোজাম্মেল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

"