জাতীয় পার্টি ইস্যুতে চমক থাকতে পারে!

আজ বসছে সংসদ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আজ রোববার বিকাল ৫টায় বসছে। এর আগে সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভা বসবে; সেখানে এ সংসদের মেয়াদ নির্ধারণ হবে। স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। বিকালে শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তবে এ অধিবেশনটি শুরু হচ্ছে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ছাড়াই বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী অধিবেশন বসলেও নানা দিক থেকে আলোচনায় রয়েছে অধিবেশনটি। বিশেষ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে সংসদের বিরোধী দলের নেতা কে হবেন; এ ইস্যুতে জাতীয় পার্টিতে চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বর্তমান সংসদের বিরোধীয় দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদবিরোধী নেতা ও পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে। এর আগে পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের একই ধরনের দাবিতে স্পিকারকে চিঠি দেন। এ নিয়ে পুরো দ্বিধা-বিভক্ত জাতীয় পার্টি এখন।

এই সংকটের মুখে রওশন ও কাদের কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। গতকাল শনিবার জাতীয় পার্টির টালমাটাল অবস্থার মধ্যে সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন বিরোধীয় দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। যেখানে দলের অন্য অংশের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে সদস্য হিসেবে সভায় উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আজ সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় উপনেতার কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সভায় জাতীয় পার্টি দলীয় সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সভার আলোচ্য সূচিতে রাখা হয়েছে বিগত সভার সিদ্ধান্ত পাঠ ও দৃঢ়করণ এবং জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন। আর জি এম কাদের ঘোষণা করেছেন আগামী ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পার্টির সম্মেলন।

জাতীয় পার্টির মধ্যকার সমস্যার বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, তাদের চিঠি নিয়ে আইন-কানুন খতিয়ে দেখা হবে। আর বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন তা কার্যপ্রণালি বিধিতে বলা আছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিরোধী দলের মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা তারা নিজেরাই সমাধান করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রী এবং উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। জাতীয় সংসদের কাযপ্রণালি-বিধি অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার নিয়োগ দেন স্পিকার।

এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী সংসদের সিটিং কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে তার ওপর আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাব নেওয়ার পর অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। চতুর্থ অধিবেশনের আগে যেহেতু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং একাদশ সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এইচ এম এরশাদ মৃত্যুবরণ করেছেন তাই তার জীবনকর্মের ওপর সাধারণ আলোচনা শেষে অধিবেশনের মুলতবি ঘোষণা করা হতে পারে।

এর আগে গত ১১ জুলাই একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় তথা বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শেষ হয়। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংসদের এক অধিবেশন থেকে পরবর্তী ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এবারের অধিবেশন দীর্ঘ হবে না বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

চতুর্থ অধিবেশনে অনেক বিল উত্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিলগুলো হচ্ছে কাস্টমস বিল-২০১৯, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল-২০১৯, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (সংশোধন বিল-২০১৯), বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র বিল-২০১৯ এবং বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) বিল-২০১৯। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিলটি কমিটিতে বিবেচনাধীন রয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত এসব বিল সংসদ সচিবালয়ের কার্য তালিকাভুক্ত হয়।

এবার উত্থাপিত বিলের মধ্যে আলোচিত বিলটি হচ্ছে কাস্টমস বিল-২০১৯, যা চলতি সংসদে উত্থাপন করা হবে। বিলটি পাস হওয়ার পর কাস্টমস ঘোষিত রুটর বাইরে অন্য রুট বা বন্দর দিয়ে পণ্য খালাস বা রফতানি করলে সেই পণ্য বাজেয়াপ্ত ও পণ্যমূল্যের দ্বিগুণ জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

বিলে শুল্ক ও কর ফাঁকির উদ্দেশে ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট পণ্য বাজেয়াপ্ত করাসহ সর্বোচ্চ ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও শুল্ক করের দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। শুল্ক পরিশোধ ছাড়া পণ্য খালাসে সহায়তা করলে একই দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কাস্টমস কর্মকর্তাকে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা চোরাচালানে জড়িত সন্দেহে কোনো ব্যক্তিকে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে পণ্য বাজেয়াপ্ত বা জরিমানা আরোপের আগে এই আইনের অধীন কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা যাবে না। জরিমানা ও সর্বোচ্চ দন্ডের পরিমাণ কাস্টমসের কর্মকর্তা বা বিচারক কর্তৃক নির্ধারিত হবে। এজন্য আইনে কাস্টমস হাউস বা ক্লিয়ারেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার সর্বোচ্চ জরিমানা আরোপ করতে পারবেন। এছাড়া ২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায়ের ক্ষমতা আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

 

"