ত্রিপুরায় এলপিজি রফতানি করবে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেশী দেশ ভারতের ত্রিপুরায় এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) রফতানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক একটি চালান ত্রিপুরায় গেছে। বেসরকারি কোম্পানি বেক্সিমকো এলপিজি প্রথমবারের মতো এ জ্বালানি পণ্যটি রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে, আমদানি-রফতানি-পরিবহন এবং শুল্কসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো চলতি মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। সেক্ষেত্রে আগামী অক্টোবর কিংবা নভেম্বর মাসে নিয়মিত রফতানি শুরু হবে।

এর মাধ্যমে দেশের রফতানি তালিকায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হতে যাচ্ছে এলপিজি এবং ত্রিপুরার পর ভারতের অন্যান্য

রাজ্যগুলোতেও এই এলপিজি রফতানি করা হতে পারে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, দেশে এলপিজি খাতের বিস্তার চায় সরকার। বাণিজ্যিকভাবেও এটি টেকসই করার ব্যাপারে সরকারি নীতিনির্ধারক এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারা আগ্রহী। আগে কোম্পানিগুলো বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানি করে দেশে বিক্রি করত। এখন বিদেশে রফতানির সুযোগ চাচ্ছিলেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি আমদানির পাশাপাশি রফতানির সুযোগও রাখা হয়েছে এলপিজি বটলিং প্লান্ট স্থাপন নীতিমালাতে। এর ধারাবাহিকতায় ভারতে এলপিজি রফতানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চুক্তি স্বাক্ষর প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।

জ্বালানি বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে এলপিজির প্রধান দুই উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন আমদানি করবে বেসরকারি কোম্পানি বেক্সিমকো। মোংলা বন্দরে সেটি খালাস করা হবে। এরপর বাংলাদেশ থেকে তা সরাসরি পশ্চিম ত্রিপুরার বিশালগড় বটলিং প্ল্যান্টে স্থানান্তর করা হবে। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের (আইওসি) পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের পর এ রফতানি প্রক্রিয়া শুরুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত আগস্টে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এদিকে গত শুক্রবার ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিসকে (আইএএনএস) ত্রিপুরার ফুড, সিভিল সাপ্লাইজ অ্যান্ড কনজুমার অ্যাফেয়ার্স সচিব দেবাশীষ বসু বলেন, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন বাংলাদেশের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এলপিজি আমদানি করবে। এক মাসের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ওই এলপিজি বাংলাদেশের বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে পৌঁছবে। এরপর তা ত্রিপুরায় যাবে। জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের কাছে এলপিজি বিক্রি করবে বেক্সিমকো। ওই জ্বালানি পরিবহনও করা হবে বেক্সিমকোর নিজস্ব ট্যাংকারে। তবে এজন্য স্থলবন্দর এবং সড়ককে আরো প্রস্তুত করতে হবে। সেটি করা হচ্ছে।

বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা এম মুনতাসির আলম বলেন, গত আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলক একটি চালান ভারতের ত্রিপুরায় পাঠানো হয়। আরো কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, দেশে এলপিজির খুচরা মূল্য কমাতে চায় বেক্সিমকো। আমদানি বাড়লে পাইকারি পর্যায়ে খরচ কম পড়বে, তাতে খুচরা মূল্য কমানো যাবে।

জানা যায়, ত্রিপুরায় ভারতের পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসামের গুয়াহাটি এবং শিলচর থেকে ট্যাংকারে করে এলপিজি পরিবহন করা হয়। আসামের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার দূরত্ব অন্তত ৬০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে বেশকিছু পথ পাহাড়ি ও উঁচু-নিচু। আর বাংলাদেশের মোংলা বন্দর থেকে ত্রিপুরার বিশালগড় বটলিং প্লান্টের দূরত্ব ৬০০ কিলোমিটারের কিছু কম। কিন্তু এ যাত্রায় বাংলাদেশ অংশে পাহাড়ি ও ঢালুপথ নেই। ভারত অংশেও তা অপেক্ষাকৃত কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতে এলপিজির চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও দূরত্ব ও পরিবহন জটিলতায় অনেক স্থানে সময়মতো এলপিজি পরিবহন করা যায় না। এতে ব্যয়ও বেশি পড়ে। বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি পরিবহন সেই জটিলতা ও দূরত্ব কমবে। এতে খরচও কমবে। এ বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলপিজি পরিবহনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তার বিপরীতেই এ রফতানি প্রক্রিয়া শুরু হলো। পরিবহন জটিলতার কারণে ত্রিপুরা, আসাম, মিজোরাম, মেঘালয়সহ ভারতের উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যে এলপিজি পরিবহনে ব্যয় বেশি পড়ে। ত্রিপুরার পর ভারতের ওই রাজ্যগুলোতেও বাংলাদেশ থেকে এলপিজি রফতানি করা যেতে পারে।

এর আগে বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহার করে ত্রিপুরায় খাদ্যপণ্য এবং তেল পরিবহন করে ভারত। ত্রিপুরার ৭২৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভারি যন্ত্রপাতিও বাংলাদেশ হয়ে পরিবহন করা হয়। এরপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে বর্তমানে ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৬০ মেগাওয়াট আসছে ত্রিপুরা থেকে।

 

"