মশা নিধন

শতকোটি টাকার বেশি বাজেট দিল দুই সিটি

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

২০১৯-২০ অর্থবছরে মশা মারার বাজেট দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বাড়িয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি)। এ বছর মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটির বাজেট ১০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়া গত তিন বছর দুই সিটির মশা মারার বাজেট ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে ছিল। সম্প্রতি রাজধানীসহ সারা দেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রকোপ দেখা দেয়। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্ধশত ব্যক্তি মারা গেছেন। আর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০ হাজারের বেশি লোক। এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ায় এ বাজেটে মশা নিধনে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে দুই মেয়রই দাবি করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার গুলশানের ডিএনসিসি নগর ভবনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি চলতি অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম (মনিটরিং, সার্ভিলেন্সসহ) খাতে ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখার কথা জানান। গত অর্থবছরে এ খাতে তাদের খরচ হয়েছে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তা ছাড়া মশক নিধন যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয় ১০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল দুই কোটি টাকা। যদিও খরচ হয়েছে আট কোটি টাকা।

এ বিষয়ে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এবার দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের প্রবণতা বেশি থাকায় মশক নিয়ন্ত্রণে বিগত যেকোনো অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবারের বাজেটে এই খাতে ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গতবারের বাজেটে এ খাতে সাড়ে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে এবার বরাদ্দ বৃদ্ধির হার ১৮২ শতাংশ।

তিনি বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞ পরামর্শের আলোকে ইতোমধ্যে অধিকতর কার্যকর মশার কীটনাশক প্রয়োগ শুরু করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের কর্মকর্তাদের সহায়তায় ওয়ার্ড ডেঙ্গু সেল গঠন করে সচেতনতা সৃষ্টিতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মশক নিধনে কীটনাশক প্রয়োগ কার্যক্রম মনিটরিং করার লক্ষ্যে আধুনিক ট্রাকিং পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র মশক নিধন কার্যক্রম সারা বছর চলমান থাকবে জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনে এ খাতে বরাদ্দ বাড়াবে সিটি করপোরেশন। এ সময় তিনি মশক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে এর আগে গত রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) চলতি অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম (মনিটরিং ও সার্ভিলেন্সসহ) খাতে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। গত অর্থবছরে এ খাতে খরচ হয়েছে ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ডিএসসিসির বিভিন্ন পুকুর ও নালার কচুরিপানা ও আগাছা পরিষ্কার করতে নতুন বাজেটে পাঁচ গুণেরও বেশি বাড়িয়ে এ বছর বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা গত বছরে ছিল মাত্র ২৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে মশা মারার ফগা /হুইল/স্প্রে মেশিন পরিবহনে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে চার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে যা ছিল দুই কোটি এবং সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে করা হয় মাত্র ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আগামী বছরে ঢাকা শহরে যেন মশার উপদ্রব বৃদ্ধি না পায়, সে জন্য আমরা প্রথম থেকেই সজাগ থাকব। নগরবাসীকেও সচেতন করার কাজটি বছরের শুরু থেকেই করা হবে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বিগত কয়েক বছরের বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মশা নিধনে বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সামান্য কমিয়ে দক্ষিণ সিটিতে বরাদ্দ ছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, উত্তর সিটিতে ১১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। পরের বছর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে দক্ষিণ সিটিতে বরাদ্দ হয় ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, উত্তর সিটিতে ২০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মশক নিধন খাতে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং উত্তর সিটি করপোরেশন ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করে।

 

"