এই প্রথম কাশ্মীরে উড়ল ভারতের জাতীয় পতাকা

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

৩৭০ ধারা রদ হওয়ার পর এই প্রথম কাশ্মীরের সব সরকারি অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের নিজস্ব পতাকা। আর সেই জায়গায় উড়তে শুরু করেছে ভারতের জাতীয় পতাকা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এবার থেকে কাশ্মীরের সরকারি ভবনগুলোতে ভারতের জাতীয় পতাকাই দেখা যাবে।

৩৭০ ধারা রদ হওয়ার পরও বেশ কিছুদিন কাশ্মীরে সরকারি ভবনগুলোতে তাদের নিজস্ব পতাকা লাগানো ছিল। গত সপ্তাহ থেকেই সেগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। অবশেষে গতকাল রোববার সব পতাকা সরে গিয়ে সেই জায়গায় উড়তে শুরু করেছে ভারতের জাতীয় তেরঙা পতাকা। এত দিন জম্মু-কাশ্মীরের নিজস্ব পতাকা ভারতের জাতীয় পতাকার সমমর্যাদা পেত। ১৯৫২ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর সরকার আলাদা পতাকার অধিকারী হয়েছিল। অন্তর্ভুক্তি চুক্তির সঙ্গেই কাশ্মীরের পক্ষে পৃথক পতাকা রাখার বিষয়টিও স্থান পেয়েছিল। কিন্তু ৩৭০ ধারা রদ হওয়ার পর থেকে আর সেই বিষয়টির কোনো জায়গা নেই।

অন্যদিকে, কাশ্মীরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। উপত্যকার বেশ কিছু অঞ্চলে ল্যান্ডলাইন টেলিফোন সার্ভিস স্বাভাবিক হয়ে গেছে বলে খবর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, শ্রীনগরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে টেলিফোনে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। আরো বেশ কিছু জায়গায় নতুন করে টেলিফোনের লাইন বসছে। রাজ্যের মুখ্য সচিব রোহিত কানসাল জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই ৮টি এক্সচেঞ্জের ৫৩০০ ফোন সচল হয়ে যাবে। তবে উপত্যকার নানা অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবস্থা এখনো সেই আগের মতোই। তবে এখনো চলছে না বিএসএনএলের ব্রডব্যান্ড এবং প্রাইভেট কানেকশন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, ৩৭০ ধারা বিলোপের পর ২০ দিন কেটে গেলে এখনো দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বাস বা গাড়িও সে রকমভাবে চলছে না।

এদিকে, কাশ্মীর উপত্যকায় গতকাল রোববার টানা ২০ দিনে পড়ল এই অচলাবস্থা। ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ও জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাঙার পর ফোন ও ইন্টারনেট লাইন কেটে দেওয়া হয়।

এর আগে গত শনিবার জম্মু-কাশ্মীরে ঢুকতে না পেরে উপত্যকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন বিরোধী দল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী। দিল্লিতে ফিরেই জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে আক্রমণ করেছিলেন সাবেক কংগ্রেস সভাপতি।

অন্যদিকে, জল্পনা ছড়িয়েছে ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে কাশ্মীরে। তবে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন। ডিপার্টমেন্ট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপত্যকার অধিকাংশ দোকান চালু রয়েছে। শ্রীনগরে মোট ১১৬৬ দোকানের মধ্যে খুলেছে ১১৬৫টি। সরকারি ও বেসরকারি ওষুধের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে মোট ৩৭৬টি ওষুধ। উপত্যকায় ৬৫ শতাংশ দোকানই খোলা। ওষুধের জোগান ঠিক রাখার জন্য চন্ডীগড় ও জম্মুতে তিনজন করে অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল সরকারের উদ্দেশ্য হলো, কোনো গন্ডগোলেই যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে। শিগগিরই সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

 

"