পুরোদমে এগিয়ে চলছে কর্ণফুলী টানেলের কাজ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে পুরোদমে এগিয়ে চলেছে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণকাজ। পাশাপাশি চলছে সড়ক নির্মাণকাজও। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এই টানেলের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চীনের চায়না কমিউনিকেশন এবং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি)। যার প্রথম প্রান্ত থাকবে পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি। অন্য প্রান্ত থাকবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গড়ে উঠবে চট্টগ্রাম শহর থেকে দেশ যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী টানেলের খননকার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে টানেলটি পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে কাফকো ও সিইউএফএল পয়েন্টের মাঝখান দিয়ে কর্ণফুলী নদীর ওপারে গিয়ে উঠবে।

এ কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর ৩৬৫ মিটার অংশে বসানো হয়েছে ৮০টির মতো রিং। এরই মধ্যে প্রকল্পের জন্য ৩৮০ একর জমি টিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নকশা অনুয়ায়ী, টানেলের পূর্বপ্রান্তে পাঁচ কিলোমিটার এবং এক কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। নদীর তলদেশ থেকে ১৫০ ফুট গভীরে দুটি টিউবে থাকবে যান চলাচলের চার লেনের রাস্তা। ২০২২ সালের মধ্যে নির্মাণের সময় নির্ধারণ ধরা হয়েছে। টানেলের পশ্চিম ও পূর্বপান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এপ্রোচ রোড এবং ৭২৭ মিটার ওভারব্রিজসম্পন্ন টানেলটি চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, কর্ণফুলী টানেল যোগাযোগ ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরো বেগবান হবে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, কিছু ক্ষেত্রে কিছু জটিলতার কারণে কাজগুলো সেøা হচ্ছে। এগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিরসন করে শেষ করা হবে। যাতে সঠিক সময়ে টানেলের কাজ শেষ হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ-সহয়তা ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং চীন সরকারের অর্থ-সহয়তা ৭০৫.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জমি অধিগ্রহণ, সরকারি ট্যাক্স, ভ্যাটসহ কতিপয় অবকাঠামো উন্নয়নব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৩৮৩ একর। এরই মধ্যে প্রায় ২৩২ একর ভূমি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সরকারের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রকল্প ঋণ চুক্তি হয়। টানেল প্রকল্পের শহরসংলগ্ন পতেঙ্গা এলাকায় খোলা অংশের দৈর্ঘ্য ২০০ মিটার। খোলা ও কাভার অংশের দৈর্ঘ্য ১৯৫ মিটার। এপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য ৫৫০ মিটার।

অন্যদিকে নদীর অপর পাড়ে আনোয়ারা এলাকায় টানেলের খোলা অংশের দৈর্ঘ্য ১৯০ মিটার। খোলা ও কাভার অংশের দৈর্ঘ্য ২৩০ মিটার। ওই এলাকায় একটি ফ্লাইওভার থাকবে। যার দৈর্ঘ্য ৭২৭ মিটার। এ অংশে এপ্রোচ রোড থাকছে প্রায় ৫ কিলোমিটার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান পর্যটন এলাকাসমূহের মধ্যে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, বান্দরবানসহ পাহাড়, সমদ্র ও নদীর এ ত্রি-মাত্রিক নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সহজতর যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে টানেল মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

 

"