চট্টগ্রামে চামড়া সংকটের জট খুলতে শুরু করেছে

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চামড়া সংকট নিরসনে ট্যানারি মালিক, চামড়ার আড়তদার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর জট খুলতে শুরু করেছে। চট্টগ্রামের চামড়ার আড়তে মজুদ চামড়া বিক্রির প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর প্রধান চামড়া মজুদের কেন্দ্র আতুরার ডিপো এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। প্রতি বছর চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার কাঁচা ও লবণজাত চামড়া দেশের বিভিন্ন ট্যানারির পক্ষ থেকে ক্রয় করে থাকে। এবারে কোরবানির ঈদে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র চামড়া ফেলে চলে যায়। ফলে চট্টগ্রামে প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হিসাবে কমপক্ষে ১ লাখ পশুর চামড়া পচন ধরায় ভাগাড়ে ফেলতে হয়েছে। ট্যানারি মালিকদের থেকে বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় এবার তারা পর্যাপ্ত চামড়া ক্রয় করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ ওঠেছে সিন্ডিকেটের কারণে কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়নি।

চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুর থেকে উত্তর দিকে বিবিরহাট হয়ে কিছুদূর এগোলেই রাস্তার দুই ধারে চামড়ার গুদামগুলোর সারি। চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির অন্তর্ভুক্ত চামড়ার আড়তদারের সংখ্যা ১১২ জন। এ সমিতির বাইরে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২৫০-এর কাছাকাছি চামড়ার আড়তদার ও মজুতদার রয়েছে। প্রতি বছর এসব আড়তদারদের মাধ্যমে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ চামড়া দেশের ট্যানারিগুলো ক্রয় করে থাকে। এর মধ্যে গরুর চামড়া প্রায় সাড়ে ৫ লাখ, ছাগল ১ লাখ ৫০ হাজার, মহিষ ৫০ হাজার। মদিনা ট্যানারি ও রীফ লেদার নামে চট্টগ্রামে দুটি ট্যানারি রয়েছে।

চট্টগ্রামের চামড়া বাজারের সর্বশেষ জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় চামড়ার আড়তদার সরবরাহকারী মেসার্স এআই লেদারের স্বত্বাধিকারী আলহাজ মোহাম্মদ আলী সওদাগর প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর আমরা চামড়া বিক্রি করতে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এখনো ট্যানারি মালিকদের সাড়া পাইনি। আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যে ট্যানারি থেকে অর্ডার পাব, চামড়া প্রস্তুত আছে।’

ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনার ব্যাপারে দীর্ঘ ৩২ বছর এ চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মোহাম্মদ আলী সওদাগর আরো বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের ৭ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে ট্যানারি মালিকদের কাছে। বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অনেক আড়তদার কাঁচা চামড়া কিনতে আগ্রহী হননি। তিনি আড়তদারদের মাধ্যমে ওয়েট ব্লু ও কাঁচা চামড়া রফতানি চালু করার আহ্বান জানান।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি ট্যানারি মালিকরা চামড়া খরিদ করতে শুরু করবে। সমস্যার সমাধান হয়েছে।’

আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মুসলিমউদ্দিন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘ট্যানারিগুলো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।’

আতুরার ডিপোর আরেকজন আড়তদার দীর্ঘদিন চামড়া ব্যবসায় জড়িত মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওই বৈঠকের পর আমি রীফ লেদার ট্যানারি থেকে চামড়ার অর্ডার পেয়েছি। ওই ট্যানারি থেকে বলা হয়েছে চামড়া ভাঁজ করুন আমরা এসে নিয়ে যাব। এজন্য চামড়াগুলো ভাঁজ করছি। আগামী সপ্তাহে ডেলিভারি দিতে পারব আশা রাখছি। তবে ট্যানারির কাছে আগের বকেয়া পেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’

 

"