রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু যেকোনো দিন

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কক্সবাজার প্রতিনিধি

যেকোনো দিন রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। তিনি বলেছেন, এটা চলমান প্রক্রিয়া, সরকারের পক্ষ থেকে কাজ চলমান আছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এর অগ্রগতি হবে। গতকাল রোববার রাজধানীর বিস মিলনায়তনে গ্রিন অ্যান্ড রেড রিসার্চ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকট : উত্তরণের উপায় শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। এদিকে, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের রিফিউজি হিসেবে আশ্রয় দেইনি, মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশ জনবহুল হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে স্থানীয়ভাবে পুনর্বাসন সম্ভব না। আমরা মনে করেছিলাম প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রগুলো এ সংকটে এগিয়ে আসবে কিন্তু তা হয়নি। একটি দেশে গণহত্যা হচ্ছে অথচ বিশ্ব নীরব, তাদের নিজ দেশে ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেই। কোথায় বিশ্ব, কোথায় বিশ্ব আইন-মানবাধিকার।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা মনে করি রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাবে। এজন্য সরকারিভাবে আলোচনা অব্যাহত আছে, আশা করা যায় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এর অগ্রগতি আসবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবেÑ এ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, বিশ্ব কমিউনিটির সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি যেকোনো দিন থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বিসের গভর্নিং বডির সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট তৈরি করেছে মিয়ানমার। তাদের এর সমাধান দিতে হবে। আমরা আশা করছি অন্তত ছোট আকারে হলেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাটা শুরু হোক, পরে না হলে ডিমান্ড নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে তাদের নিজ দেশে ফেরাটা যেন সম্মানের হয়, নিরাপত্তার হয় সেটাও দেখতে হবে।

গ্রিন অ্যান্ড রেড রিসার্চের পরিচালক শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর পরিচালনায় আয়োজিত সেমিনারে বিভিন্ন এনজিও এবং দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল আলম নিজামী।

গতকাল কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ে প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এ সময় বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মূলত আজকের এ বৈঠক। বৈঠকে প্রত্যাবাসনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রত্যাবাসন শুরু করতে হলে কোন কোন পথ ব্যবহার করতে হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়। রোহিঙ্গারা যেতে আগ্রহী কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা মাঠ পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের মতামত যাচাই করতে গেলে তখন নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ সময় বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনসহ বিজিবি ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩০টি পরিবারের ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার দুই দেশ প্রক্রিয়া শুরু করলেও রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের মুখে ওইদিন প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। এমনকি এরপর থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে যায়।

এ পর্যন্ত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনীতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা হলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি।

"