ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

চামড়া বিক্রি করবেন আড়তদাররা

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চামড়াশিল্পের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে তাদের কাছে কাঁচা চামড়া বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরদিন সে অবস্থান বদলেছেন আড়তদাররা। গতকাল রোববার বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের উপস্থিতিতে চামড়া খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। বৈঠকে চামড়া শিল্পের সঙ্কট সমাধানে শিগগির নীতিমালা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।

বৈঠকে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলামসহ ট্যানারি

অ্যাসোসিয়েশন নেতা, চামড়া আড়তদার ও কাঁচা চামড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, চামড়া নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তা থেকে আমরা দায়িত্ব এড়াতে পারি না। এজন্য আমরা চামড়া শিল্প নিয়ে শিগগির একটি নীতিমালা তৈরি করছি। আমরা একটি স্থায়ী সমাধানের পথে যেতে চাই।

সালমান এফ রহমান বলেন, আশা করি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। যেহেতু চামড়া শিল্প গার্মেন্ট শিল্পের পর গুরুত্বপূর্ণ খাত। ভবিষ্যতে যেন চামড়া শিল্প মেইন শিল্প হিসেবে আসতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

কাঁচা চামড়া রফতানির বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, চামড়ার দাম না পাওয়ায় যারা চামড়া পুঁতে ফেলেছে বা রাস্তায় ফেলে দিয়েছে তারা কা-জ্ঞানহীন কাজ করেছে। এরপর আমরা কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমোদন দেই। পাশাপাশি ট্যানারস অ্যাসোশিয়েশনকে দ্রুত চামড়া ক্রয় করার অনুরোধ জানালে তারা শনিবার থেকে চামড়া কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তারা স্বল্প পরিমাণে চামড়া ক্রয় করছে। তবে সেখানেও যথাযথ দাম দিচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এবার ঈদের পর কোরবানির পশুর চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতন হয়েছে। ফলে আড়তদাররা ট্যানারি মালিকদের কাছে কাঁচা চামড়া বিক্রি না করার ঘোষণায় এ সংকট ব্যাপক আকার লাভ করে। এ সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক বৈঠক ডাকা হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কাঁচা চামড়া বিক্রির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ২২ আগস্ট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের মধ্যস্থতায় তাদের আড়তদার ও ট্যানারদের মধ্যে বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এবার কোরবানির ঈদের দিন বিক্রি করতে না পেরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লাখ খানেকের বেশি কাঁচা চামড়া ফেলে দেন। ওই দিনই কাঁচা চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে রফতানির সুযোগ দেওয়ার কথা জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর সরকারের অনুরোধে ট্যানারি মালিকরাও শনিবার থেকে কাঁচা চামড়া কেনার কথা বলেন। কিন্তু গত শনিবার আড়তদাররা ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া ‘শত শত কোটি টাকা’র সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কাঁচা চামড়া বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় সংকট নতুন মাত্রা পায়। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল রোববার চামড়া সংকট সমাধানে বৈঠকে ট্যানারি মালিক ও আড়তদারসহ ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেয় সরকার।

বৈঠকের শুরুতে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ২০ তারিখ থেকে চামড়া কেনার কথা বলেছিলেন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশেন। ফড়িয়া ও আড়তদারদের মধ্যে একটি গ্যাপ রয়েছে বলে ধারণা ছিল। মাঠ পর্যায়ে বলা হলো চামড়া সংরক্ষণের জন্য। এ পরিস্থিতিতে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্রয়ের কথা বলে, তারা কিছু কিছু ক্রয় করেছে তবে তারা সে রকমভাবে কিনেননি। এরই মধ্যে চামড়া রফতানির ঘোষণা দিয়েছি। এ পরিস্থিতিতে কী করা যায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে যে সমস্যা তা কীভাবে সমাধান করা যায় এবং ভবিষ্যতে কী করা যায় বা আবার সম্মুখীন না হই তার সাজেশন নেওয়া হবে। সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

"