এ মাসে সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার)

সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের আশ্রয় ক্যাম্প থেকে চলতি আগস্ট মাসেই ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার। গত সপ্তাহে ২১ জন রোহিঙ্গা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রাখাইন ফিরে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সরকারের এ উদ্যোগ বানচাল করতে প্রকাশ্যে প্রত্যাবাসন বিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে কয়েকটি মহল। গত শনিবার নেপিডোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে মিয়ানমার ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর যাচাইকৃত তালিকা হস্তান্তর করেছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা

মিয়ানমারের কাছে প্রদান করা হয়েছে। মিয়ানমারের একাধিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে গত ১০ আগস্ট দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর যাচাইকৃত ছাড়পত্র হস্তান্তর করেছেন।

গত ৯ আগস্ট উখিয়া ও টেকনাফের একাধিক আশ্রয় ক্যাম্প থেকে পাঁচ পরিবারের ২১ জন রোহিঙ্গা গোপনে মিয়ানমার ফিরে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নাফ নদী পেরিয়ে রাখাইন ফেরত যাওয়া এসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার ইমিগ্রেশন পুলিশ, সীমান্ত রক্ষী বিজিপি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছে বলেও জানা গেছে। উভয় দেশের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত প্রত্যাবাসন ঘাট নাফ নদীর ওপারের নাগাখুইয়ে অভ্যর্থনা কেন্দ্র হয়ে রোহিঙ্গারা ফিরে যায় বলে জানা যায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অনেকে রাখাইনে ফেরত যেতে আগ্রহী। কিন্তু দেশি-বিদেশি কিছু স্বার্থাম্বেষী মহলের প্ররোচনায় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থিরা প্রকাশ্যে সরকারের উদ্যোগ বানচাল করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওই রোহিঙ্গা চক্রের অপহরণ, গুম, খুন, নির্যাতন, নারীর শ্লীলতাহানি, চাঁদাবাজিসহ গুরুতর অপরাধের মুখে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ নিরাপত্তাহীনতায় নিজ উদ্যোগে রাখাইন ফিরে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে গত ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়। ঢাকা-নেপিডোর মধ্যে হওয়া ওই চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ও ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার। চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যে তালিকা দেওয়া আছে সেখান থেকে যাচাই বাছাই করে ছাড়পত্র দিচ্ছে। এটি নিয়মিত দিয়ে থাকে। চলতি মাসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ পরিস্থিতি অনকূলে থাকলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি রয়েছে। স্বউদ্যোগে গত সপ্তাহে কিছু রোহিঙ্গা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। তবে রাতের অন্ধকারে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার যাতায়াত রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চৌকিতে কথিত হামলার ধোঁয়া তুলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর হত্যা-ধর্ষণ-নিপীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৮ লাখের মতো রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের একাধিক শিবিরে আগে থেকে থাকা ও নতুনভাবে জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গা মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

 

"