ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা উদযাপন

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে হয় ঈদের প্রধান জামাত। আর প্রথম জামাত হয় বায়তুল মোকাররমে। সকাল থেকেই ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। ঈদ জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে প্রবেশ করতে দীর্ঘ লাইন হলেও হাসিমুখে ছিলেন মুসল্লিরা। জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ। নামাজ শুরু হয় সকাল ৮টায়। এক কাতারে সব

বয়সের মানুষ আদায় করেন ঈদের নামাজ। নামাজ শেষে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়। হিংসা, হানাহানি আর বিদ্বেষ ভুলে একে অপরের পাশে থাকার সৌভাগ্য কামনা করা হয় আল্লাহর দরবারে।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মুসলিমরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন করে। ঘরে ঘরে ত্যাগের আনন্দে মহিমান্বিত হয়েছে মন। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্র্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে থেকে শুরু হয় কোরবানির এই প্রচলন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। সে সময় আল্লাহ পাক বেহেস্ত থেকে একটি দুম্বা ওই একই কোরবানি করান। ওই পরীক্ষায় হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ মহান আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে যান। ওই অনন্য ঘটনার স্মরণেই ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির এ রেওয়াজ চালু হয়। মহান আল্লাহ পাকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, তার সন্তুষ্টি অর্জন এবং তারই রাস্তায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এ ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বে কোরবানি ও ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।

"