ঢাকা ফাঁকা

‘যদি এমন থাকত সব সময়’

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের ছুটি কাটাতে যান্ত্রিক নগরী ঢাকা ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামে ফিরছে মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড (মহাখালী, গাবতলী, গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ), সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরে ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ফলে ব্যস্ত রাজধানী ক্রমেই ফাঁকা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সব রাস্তা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক ফাঁকা। এই অবস্থায় দক্ষিণ বনশ্রী থেকে ডাক্তার দেখাতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রুমা আক্তার বলেন, গত সপ্তাহেও হাসপাতালে এসেছিলাম। কমপক্ষে দেড় ঘণ্টা সময় বাইকেই লেগেছিল। বাসে বা অন্য পরিবহনে তো আরো বেশি। তবে সড়ক এখন অনেক ফাঁকা। ২৫ মিনিটেই আসতে পারলাম। এ সময়টা আমরা যারা ঢাকায় থাকি তাদের জন্য খুব আনন্দদায়ক। যদি সবসময় এমন থাকত তবে কত ভালো হতো।

গুলিস্তান-গাবতলী রুটের মৈত্রী সিটি সার্ভিস বাসের হেল্পার সুমন জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকেই বাসের যাত্রী কমতে শুরু করেছে। আগে গুলিস্তান থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আসতে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা লাগলেও রাস্তা ফাঁকা থাকায় আজ পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ে শাহবাগ পৌঁছেছে। ডেমরা সানারপাড়ের বাসিন্দা নাসিমুল হাসান নামের এক বাস যাত্রী জানান, মোহাম্মদপুরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পৌঁছাতে প্রতিদিন তাকে যুদ্ধ করে বাসে উঠতে হয়। কিন্তু বাসে যাত্রী সংখ্যা খুবই কম। তাই এক সিটে বসে আরাম করে গন্তব্যে যাচ্ছেন বলে জানান।

গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে রাজধানীর তেজগাঁও, কলেজগেট, ফার্মগেট, ধানমন্ডি-৩২, মিরপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে তুলনামূলকভাবে অন্য দিনের চেয়ে সড়কে যানবাহন কম। আগের মতো যান্ত্রিক শব্দ নেই, নেই বেশি কোলাহল। সড়কে যেসব যানবাহনের দেখা মেলে তার অধিকাংশেরই গন্তব্য বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশন কিংবা সদরঘাট। আবার নিকট দূরত্বের বাজার কিংবা পশুর হাটগামী মানুষের সংখ্যাও বেশি।

দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে দেখা যায়, সিগনালে নেই আগের মতো দীর্ঘ গাড়ির সারি। দুই-চারটা যানবাহন আসছে তো নিজেদের মতো করে ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড অপেক্ষা শেষে ছেড়ে যাচ্ছে গন্তব্যে। এজন্য চাপ নেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মধ্যে। বিজয় সরণি মোড় পেরিয়ে তেজগাঁও ফ্লাইওভারে উঠার মুখে কথা হয় বাইক সার্ভিস দোকানের কর্মচারী আতাউরের সঙ্গে।

তিনি বলেন, অন্য যেকোনো সময় এই সিগনাল এক চান্সে পেরিয়ে যাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু এখন খুব দ্রুতই সব লেনের গাড়ি চলাচল করছে। কারণ গাড়ির চাপ নেই, মানুষের সংখ্যা কম থাকায় কারো মধ্যে পেরেশানি নেই।

বিজয় সরণি মোড়ে ডিউটিরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘শহরটা যদি সবসময় এমন থাকত। দুর্ঘটনা ঘটত না, গাড়ির চাপে মানুষ আমাদের গালাগালও করত না। থাকত না যানজট। মানুষ খুব সহজভাবে চলাচল করত।’ তবে এখনকার দৃশ্যটা কাম্য হলেও বাস্তবতা বদলে যাবে ঈদের দুই থেকে চার দিন পরই। এ কটা দিনই যা স্বস্তি।

কলেজ গেটে কথা হয় দিনাজপুরগামী যাত্রী সাহাদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা ঢাকা শহর এখন ফাঁকা। শান্তিনগরের বাসা থেকে প্রাইভেট কারে যাচ্ছি কল্যাণপুর। সড়কে কোনো চাপ নেই সবার গন্তব্য যেন এখন বাস টার্মিনাল। শ্যামলী আসার পর মানুষের আনাগোনা টের পাচ্ছি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার জসিম উদ্দিন বলেন, ট্রাফিক সিগনালে চাপ নেই। চাপ এখন গরুর হাট ও বাস টার্মিনালে। সঙ্গত কারণে গরুর হাট ও বাস টার্মিনালে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বেশি নজর রাখা হচ্ছে।

 

"