ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আবার বাড়ল

* সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে মৃত্যু ছোট্ট রুশার * রোগী ভর্তিতে ঢামেকে রেকর্ড * পঙ্গু হাসপাতালেও ডেঙ্গুর চিকিৎসা

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আবার বেড়েছে। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এরই মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী। এদিকে ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ছোট্ট রুশা সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে ঈদে বাড়ি ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে সে মারা গেছে।

গতকাল ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত তিন দিন যথাক্রমে ২৪২৮, ২৩২৬ ও ২০০২ জন আক্রান্তের সংখ্যা থাকলেও গতকাল শনিবার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২১৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১০৬৫ জন ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ১১১১ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৭৭ জন, চট্টগ্রামে ২২৬ জন, খুলনায় ১২৬ জন, রংপুরে ৭১ জন, রাজশাহী ১১৪ জন, বরিশালে ১৭৮ জন, সিলেটে ৩২ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হয়েছেন ৩৬ হাজার ৬৬৮ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭ হাজার ৮৭৬ জন। শুক্রবার পর্যন্ত ৭৬ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা, হেলথ ইমারর্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার, ডেঙ্গুবিষয়ক কার্যক্রমের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, গত ৭ আগস্টের তুলনায় গত ৮ এবং ৯ আগস্ট চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরা রোগীর হার বেড়েছে যথাক্রমে ৩৪ শতাংশ ও ১৯ শতাংশ। সারা দেশে বর্তমানে মোট রোগী ভর্তি আছেন ৮ হাজার ৭৬৩ জন। ঢাকার ৪০টি সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে এ মুহূর্তে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭৬ জন।

তবে রাজধানী ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তি আছেন ৩ হাজার ৬৮৭ জন। ঢাকার বাইরে এ পর্যন্ত মোট ৬৭ শতাংশ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে। গত ৭ ও ৮ আগস্টের তুলনায় শুক্রবার ৯ আগস্ট দেশে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর হার কমেছে যথাক্রমে ১৮ এবং ১৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা : একদিনে (২৪ ঘণ্টা) ডেঙ্গু রোগী ভর্তি এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে রেকর্ড গড়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি হন ২৫৩ জন রোগী। এটি ঢামেকের ইতিহাসে একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যার রেকর্ড।

একইভাবে বর্তমানে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ৮৪৮ জন রোগী। এটিও ঢামেকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের মধ্যে মিটফোর্ডে ৬৩ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ২৪, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৭৮, বিএসএমএমইউতে ৩০, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ১৪, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৩, বিজিবি হাসপাতাল পিলখানা ঢাকায় ২, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৩৪ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত ২৯ জন মারা গেছেন। তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু রোগীদের সরকারিভাবে চিকিৎসা দিতে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালেও চালু হলো ৬৫ বেডের নতুন ডেঙ্গু ইউনিট। হাসপাতালটির সদ্য নির্মিত নতুন বিল্ডিংয়ের অষ্টমতলায় এই ডেঙ্গু ইউনিটটি চালু হয়েছে। এরই মধ্যে রোগীদের জন্য মশারি, বেডসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধপত্র বিনামূল্যে দেওয়া হবে। চিকিৎসা নিতে আগ্রহীদের সরাসরি অষ্টমতলায় গেলেই হবে।

জানা গেছে, নিটোরের চিকিৎসকরা ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জন চিকিৎসক এখানে দায়িত্ব পালন করবেন। ডেঙ্গু ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন নিটোরের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম আখতারুজ্জামান।

বরিশাল : ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশু সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে ঈদে বাড়ি ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। শনিবার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুশা নামের ১০ বছরের এই শিশুর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের পরিচালক বাকির হোসেন বলেন, রুশা মা-বাবার সঙ্গে ঢাকায় থাকত। কয়েকদিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থও হয়ে ওঠে সে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বৃহস্পতিবার রাতে বাসে করে গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠী যাচ্ছিল পরিবারের সঙ্গে। পথেই সে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল।

"