যাত্রী বেশি লঞ্চ কম

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ ভিড় করেছেন ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও। কিন্তু যাত্রীর তুলনায় লঞ্চের সংখ্যা কম ও ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। এদিকে, ঈদে অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড়ে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, বাংলাবাজার, ইসলামপুর রোড, রায়সাহেব বাজার, নয়াবাজার, বংশাল পর্যন্ত যানজটের কারণে যাত্রীদের হেঁটে টার্মিনালে আসতে দেখা গেছে।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিস না দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর থেকেই যাত্রীরা সদরঘাট টার্মিনালে আসা শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী সংখ্যাও বাড়তে থাকে। দুপুর না গড়াতেই ঘরমুখো যাত্রীতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না টার্মিনালে। সদরঘাট টার্মিনালে দেখা যায়, সকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গের বরিশাল, ভোলা, হাতিয়া, মনপুরা, চাঁদপুর, বরগুনা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলার ঘরমুখো যাত্রীরা ভিড় করছেন লঞ্চঘাটে। টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। পন্টুনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। যাদের লঞ্চ বিকালে বা সন্ধ্যায় তারাও টার্মিনালে আসেন দুপুর ১২টার পর থেকে। টার্মিনাল, পন্টুন, লঞ্চে যাত্রী আর যাত্রী। পন্টুনে ভিড় থাকায় অনেকেই নৌকায় করে লঞ্চে ওঠেন। তবে লঞ্চের নির্দিষ্ট সময় না থাকায় পন্টুনে যাত্রীদের শুয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

এছাড়া লঞ্চের যাত্রীদের হয়রানিরোধে নৌ-পুলিশের একাধিকদল নদীতে ও টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করছে। টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। মাঝনদী থেকে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠা বন্ধে নৌ-পুলিশ তৎপর রয়েছে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের কিছু রুটে ঈদ উপলক্ষে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ালেও অনেক রুটে আগের সিডিউল অনুযায়ী লঞ্চ না ছাড়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেকেই ভোর থেকে পন্টুনে অপেক্ষা করছেন, বেলা ১টা পর্যন্ত লঞ্চের দেখা পাননি। এ কারণে অনেকেই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ঈদের আগে বাড়ি যাওয়া নিয়ে। তবে যাদের কেবিনের অগ্রিম টিকিট করা নেই, তারা যাত্রা নিশ্চিত করতে লঞ্চ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে টার্মিনালে এসেছেন।

যাত্রীরা জানান, লঞ্চ ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের মতো নেওয়া হয়। তবে লঞ্চ ছাড়ার ক্ষেত্রে সিডিউল বিপর্যয়ের ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে তাদের। ভোলার ফাতেমা বেগম বলেন বলেন, পরিবারসহ টার্মিনালে এসেছি সকাল ৭টায়। লঞ্চের জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। ছাড়ার কথা ছিল দুপুর ১২টায়, কিন্তু এখনো কোনো খবর নেই।

হাতিয়াগামী তাসরিফ লঞ্চের যাত্রী মো. রাশেদ বলেন, হাতিয়া যাওয়ার জন্য সদরঘাট এসে দেখেন সময়ের আগে লঞ্চ চলে গেছে। কারণ যাত্রী ভরে যাওয়ায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা লঞ্চ ছেড়ে দিতে বাধ্য করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আমাদের। তাই সকাল থেকে বসে আছি। ফিরতি লঞ্চ এলে সে লঞ্চে উঠতে পারলে বাড়ি যেতে পারব।

বরগুনার যাত্রী রাজিব বলেন, সকাল ৬টা থেকে বসে আছি লঞ্চের আশায়। দুপুর হলো এখন পর্যন্ত লঞ্চের দেখা মেলেনি। বরগুনা, ভোলা, চরফ্যাশন, হাতিয়া, মনপুরার মতো দূরের স্থানগুলোতে বিশেষ সার্ভিস চালু না করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

ঘাট কর্মকর্তা বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. হেদায়েত উল্লা বলেন, সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত প্রায় ৫০টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। ৫৯টি লঞ্চ বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছে। ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে ২২টি। অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড়ে এখন লঞ্চের সিডিউল মানা যাচ্ছে না। আমরা যখন যেখানে প্রয়োজন বিশেষ সার্ভিসের ব্যবস্থা করছি চাহিদা অনুযায়ী। এতে যাত্রীদের একটু অসুবিধা হচ্ছে।

 

 

"