গ্রেফতার জঙ্গিদের টার্গেট ছিল পুলিশ : মনিরুল

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া নব্য জেএমবির ‘উলফ প্যাক’ জঙ্গিদের টার্গেটে ছিল সুবিধাজনক সময়ে পুলিশের ওপর হামলা করা। সেই লক্ষ্যে তারা ‘এক্সক্লুসিভ ডিভাইস বা আইইডি’ তৈরি করার যন্ত্রাংশও সংগ্রহ করেছিল। দীর্ঘ নজরদারি শেষে হামলা পরিকল্পনার সঙ্গে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। গতকাল শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, নজরদারির পর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নব্য জেএমবির ‘উলফ প্যাক’ গ্রুপের পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই শিক্ষার্থী এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। গ্রেফতার জঙ্গিরা হলেন মোহাম্মদ শিবলী আজাদ ওরফে শাদী, শাহ এম আসাদুল্লাহ মুর্তজা কবীর ওরফে আবাবিল, মাসরিক আহমেদ, মো. আশরাফুল আল আমীন ওরফে তারেক ও এস এম তাসমিন রিফাত। এদের মধ্যে মোহাম্মদ শিবলী আজাদ ওরফে শাদী ও শাহ এম আসাদুল্লাহ মুর্তজা কবীর ওরফে আবাবিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শিক্ষার্থী।

মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার পাঁচ জঙ্গি পুলিশের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল মোহাম্মদ শিবলী আজাদ ওরফে শাদী। বাকিরা তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছিল। সাদী হামলার জন্য এক্সক্লুসিভ ডিভাইস বা আইইডি তৈরি করার যন্ত্রাংশও সংগ্রহ করেছিল। সর্বশেষ রাজধানীর দুটি জায়গা থেকে যে দুটি আইইডি জব্দ করা হয় তার সঙ্গে এসব যন্ত্রাংশের মিল রয়েছে। আর শাহ এম আসাদুল্লাহ মুর্তজা কবীর ওরফে আবাবিল একদিকে আধ্যাত্মিক নেতা এবং সে এই হামলার জন্য অর্থ জোগাড় করার চেষ্টা করছিল। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে সে কিছু অর্থ এই হামলার জন্য জোগাড় করেছিল।

মনিরুল আরো বলেন, মাসরিক আহমেদের দায়িত্ব ছিল যশোর সীমান্ত দিয়ে হামলার উদ্দেশে অস্ত্র আনা। বাকিরা সদস্য সংগ্রহের কাজ করতেন। পুলিশের ওপর জঙ্গিদের রাগের কারণ হচ্ছে, হলি আর্টিজানের পর পুলিশের হাতে সব থেকে বেশি জঙ্গি নিহত বা গ্রেফতার হয়েছে। সেই জায়গা থেকে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তারা পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। পুলিশকে ভীত করার জন্যেই এমন হামলার পরিকল্পনা চলছিল। এছাড়া পুলিশের ওপরে হামলা করলে সাধারণ মানুষ যেন আরো ভীত হয় এবং ভাবে যে পুলিশের ওপরে হামলা হয়েছে প্রতিরোধ করতে পারছে না, তো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে।

সিটিটিসি প্রধান তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের সঙ্গে আরো কয়েকজন জড়িত আছে এই পরিকল্পনায়। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে আরো তথ্য জানা যাবে। তারা যে হামলার জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করেছিল তা কৌশলগত কারণে বলা যাচ্ছে না।

কাশ্মীর ও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ জঙ্গিদের অনেক সময় উৎসাহিত বা অনুৎসাহিত করে। নিউজিল্যান্ডের হামলা পর শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলা হয়। এই হামলাটিকে বিশ্বের জঙ্গি কর্মকান্ড সম্পর্কে এক্সপার্টরা বলে থাকেন যে, নিউজিল্যান্ডের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে শ্রীলঙ্কায় হামলা করা হয়েছে। এই দুটি ঘটনার পর বাংলাদেশ গত ঈদের আগে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু এটা আমরা সফলভাবে দমন করতে পেরেছি। সর্বশেষ কাশ্মীরের ঘটনা ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়, সে বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করাটা সমুচিত হবে না। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যাতে নতুন করে জঙ্গি সংগ্রহ না হতে পারে সেই বিষয়ে আমাদের নজর রয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে জঙ্গি হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলেও তিনি যোগ করেন।

 

"