প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাদেরের সাক্ষাৎ

জ্বর থাকলে ঢাকা ছাড়ার আগে পরীক্ষার আহ্বান

দেশে ফিরেই খোঁজ নিলেন ডেঙ্গুর

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কারো শরীরে জ্বরসহ সন্দেহজনক উপসর্গ থাকলে তাদের রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ঈদে যারা ঘরে ফিরবেন, সবাই যেন সতর্ক, সচেতন থাকেন। যাদের মাথাব্যথা করবে, বমি বমি ভাব হবে, খাওয়ার ইচ্ছে থাকবে না, শরীরে জ্বর জ্বর ভাব থাকবে, তারা রক্ত পরীক্ষা করে এলাকায় বা ঘরের দিকে, গৃহযাত্রা করবেনÑ এটা আপনাদের কাছে আমার আহ্বান। প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর গতকাল বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এর আগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরও আগে লন্ডনের স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে রওনা দেন তিনি। গত ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে যান। সেখানে থাকাকালে ২০ জুলাই তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে যোগ দেন।

লন্ডনে কমনওয়েলথ মহাসচিব পেট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড এবং লর্ড আহমেদ অব উইম্বলডন পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া লন্ডনের একটি হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে প্রথমেই ডেঙ্গু বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তার প্রশ্ন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার কী কাজ। তিনি লন্ডনে থাকা অবস্থায়ও প্রতিদিন ডেঙ্গু বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন।

কাদের আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, এখন একটাই কাজ প্রাণঘাতী এই ডেঙ্গু নির্মূল করতে হবে। আমাদের বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করতে হবে। আমরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী এবং বন্যার্তদের পাশে ২৪ ঘণ্টাই আছি।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক যুগের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। এ সময় বেগম মুজিব শুধু পরিবারকেই সামলাননি, সেই সঙ্গে আওয়ামী পরিবারকেও সামলে নিয়েছেন। সেই দুঃসময়ে তিনি আওয়ামী লীগের তহবিল পর্যন্ত সরবরাহ করেছেন। বেগম মুজিবের অনুপ্রেরণা এবং সহযোগিতায়ই শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। তার অবদান কোনোভাবেই অনস্বীকার্য নয়। তিনি নেপথ্যে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং দেশের জন্য কাজ করেছেন। তিনি বাঙালি জাতির বীরমাতা।

সভা শেষে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ এবং বন্যার্ত অসহায়-সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি, মশারি এবং ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। সভাপতিত্ব করেন ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির আয়োজনে দেশের ১০ জেলায় এডিস মশা নিধনের উপকরণ ও বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, সোনামগঞ্জ বান্দরবান, সিরাজগঞ্জ জেলার প্রত্যেকটিতে এক হাজার শাড়ি, এক হাজার লুঙ্গি, শ্যামাই, এক হাজার মশারি বিতরণ করা হয়।

 

"