বৃষ্টিবিঘ্নিত হাটে এসেছে পর্যাপ্ত পশু কেনাবেচা কম

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

টানা দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর অলিগলিসহ মূল সড়কে গতকাল বৃহস্পতিবার পানি জমে যায়। এ সময় পশুরহাটগুলোতেও পানি জমে। এতে সমস্যায় পড়েন কোরবানির পশুর হাটের দর্শনার্থীসহ ক্রেতা-বিক্রেতারা। প্রায় ক্রেতাহীন হাটগুলোতে পশু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। হাটে এবার গবাদি পশুর জোগান বেশি, তবে গতকালও বৃষ্টিবিঘœ পরিস্থিতির কারণে ক্রেতাদের তেমন দেখা মেলেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকার আফতাবনগর কোরবানি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, এমন চিত্রই। সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকার গরুও আছে এ বাজারে। তবে রাত থেকে বৃষ্টির জন্য একটু ধকল পোহাতে হয়েছে পশু ব্যবসায়ীদের। এ বিষয়ে রাজধানীর শনির আখড়া এলাকার ব্যবসায়ী আহমেদ জুবায়ের বলেন, বৃষ্টির জন্য মাঠে কাদা হওয়ায় গরু রাখতে একটু ঝামেলা হচ্ছে। ঈদের কয়েক দিন আগে রাস্তায় যানজট বেড়ে যায়। এ সময় বিপুল পরিমাণ গরু আনা হয় বলে সুবিধামতো স্থানে গরু রাখা যায় না। তাই একটু আগেভাগেই গরু নিয়ে এসেছি, যেন পছন্দমতো জায়গা পাওয়া যায়।

হাতিরঝিল সংলগ্ন প্রধান গেট থেকে একটু সামনে গেলেই পিচঢালা রোডের দুই পাশ ঘিরে সারিবদ্ধভাবে বিক্রির জন্য বেঁধে রাখা হয়েছে কোরবানিযোগ্য সব গরু। সড়কের এক পাশ দিয়ে গরুভর্তি ট্রাক ঢুকছে। অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। রোডের পাশ দিয়ে ছোট খোলা জায়গাতেও বেঁধে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে এখনো পশু আসছে এ হাটে। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে অনেকে আবার গরুর গলায় জরির মালাও পরিয়েছেন। আর দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলেই মনে করছেন বিক্রেতারা।

এ বিষয়ে কথা হয় রাজশাহীর থেকে আসা ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। সকালে বৃষ্টির মধ্যেই চারটি গরু নিয়ে এসেছেন তিনি। এর মধ্যে ছোট দুটির ওজন দুই মণের একটু বেশি আর বড় গরু চার থেকে সাড়ে চার মণ। ছোট গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার। অন্যদিকে চার মণের গরুর দাম দেড় লাখের বেশি। তিনি বলেন, রাজধানীতে আরো অনেক হাট আছে। কিন্তু সুদূর রাজশাহী থেকে এ হাটে গরু নিয়ে এসেছি, যাতে তাড়াতাড়ি গরুটি বিক্রি করতে পারি। শুনেছি এ হাটে অনেক শিল্পপতিরা গরু কিনতে আসেন। দাম যে খুব বেশি ধরা হয়েছে, এমন না।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দাম একটু বেশি চাইলেও এবার গরুগুলো অন্যবারের তুলনায় বেশ আকর্ষণীয়। এ বিষয়ে কথা হয় তেজগাঁও এলাকার ব্যবসায়ী জিয়ারত হোসেনের সঙ্গে। দুপুরে ছোট ভাই আর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গরু কিনতে এসেছেন।

তিনি বলেন, এখনো কেনা হয়নি গরু, ঘুরে দেখছি, দরদাম করছি। যেটা নিজের সামর্থ্যরে মধ্যে হয়ে যাবে, সেটাই নেব। এবার হাটে অপেক্ষাকৃত দেশি জাতের ছোট আকারের গরু বেশি। তবে বড় ও মাঝারি আকারের গরুও আছে। ছোট গরু ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি ও বড় আকারের গরুর দাম ৭০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

গাবতলীতে গরু বেচাকেনা জমেনি : রাজধানীর ঢাকার অন্যতম গাবতলী হাটে কোরবানির গরু আসা শুরু করেছে। তবে গরু থাকলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বেচাকেনা সেভাবে জমে উঠেনি। ক্রেতারা হাটে হাটে ঘুরে গরু দেখে যাচ্ছেন। দাম যাচাই করছেন, কিনছেন না। গরুর দাম কমাচ্ছেন না ব্যাপারীরাও। গাবতলীর পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, কোরবানি উপলক্ষে স্থায়ী এ হাট নির্দিষ্ট জায়গা ছাপিয়ে আশপাশে বিস্তৃত হয়েছে। বেশ অনেকখানি জায়গাজুড়ে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু। বেড়িবাঁধের পাশেও কিছু কিছু গরু দেখা যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে দেশি গরুর সংখ্যা বেশি। কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারীরা। এর মধ্যে কুষ্টিয়া থেকে আনা গরুর সংখ্যাই বেশি। ব্যাপারীরা সবাই নিজেকে খামারি বলে দাবি করছেন। এমন একজন ফজলু ব্যাপারী ২৯টি গরু নিয়ে এসেছেন হাটে। বুধবার রাতে তিনি গরুগুলো নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে রওনা হয়ে বৃস্পতিবার সকালে গাবতলী পৌঁছান। তিনি জানান, গরু আনার সময় পথে তার কোনো সমস্যা হয়নি। কোনো বাধারও শিকার হননি।

বিমানবন্দর হাজী ক্যাম্পের অদূরে কাওলার শিয়ালডাঙ্গায় অস্থায়ী পশুর হাটে সিরাজগঞ্জ থেকে ছয়টি গরু নিয়ে এসেছেন বাকী বিল্লাহ ও হেকমত আলী। নিজেদের লালন-পালন করা গরুগুলোর পরিচর্যা করছেন। দুই-একজন দাম বললেও এখনো কাক্সিক্ষত দাম পাননি। সাড়ে সাত মণ ওজনের একটি গরুর দাম হাঁকিয়েছেন ২ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত দাম উঠেছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ১৩ মণ ওজনের একটি গুরুর দাম চেয়েছেন ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই গরুর দাম উঠেছে ৪ লাখ টাকা।

পাবনা থেকে মোক্তার মোল্লা ৯ থেকে সাড়ে ৯ মণ ওজনের দুটি গরু নিয়ে এসেছেন। প্রতিটির দাম চাচ্ছেন ৩ লাখ টাকার বেশি। এখন পর্যন্ত বড় গরুটির ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম উঠেছে বলে জানান তিনি।

হাটের ইজারাদার হীরা আহমেদ রতন বলেন, বৃহস্পতিবার বৃষ্টির জন্য তেমন একটা বেচাকেনা হয়নি। বিকালে কিছু ক্রেতারা এসেছেন। সব মিলিয়ে সারা দিন ১০ থেকে ১২টি গুরু বিক্রি হয়েছে। ঢাকার মানুষ ঈদের আগের দিন গরু কিনে থাকে। কেননা বাসাবাড়িতে বেশি দিন গরু-ছাগল রাখার মতো ব্যবস্থা নেই। শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে ক্রেতাদের চাপ বাড়বে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের অনেক বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অর্থিক নিরাপত্তাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এসব স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব কোরবানির পশু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।

"