ট্রেন লঞ্চ বাসে ঈদযাত্রা শুরু

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহার আর বাকি মাত্র তিন দিন। খুশির দিনটি উদযাপনে কমবেশি সবাই ঢাকা ছাড়ছে। ট্রেন, বাস ও লঞ্চে করে শুরু হয়েছে বাড়িমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষকে দেখা গেছে। এদিকে, দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণে সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এডিস মশা থেকে নাগরিকদের সুরক্ষার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন, ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার আগে বাসে যেন মশক নিধনে অ্যারোসল স্প্রে করা হয়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সব ট্রেনে মশার ওষুধ স্প্রে ব্যবহার করেছে রেলওয়ে। ই-ফগার মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে। এ ছাড়া দুর্গন্ধ রোধে স্প্রেও দেওয়া হয়েছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল হক জানান, কেউ যাতে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হয়, সে জন্য সব ট্রেনে রেলের নিজস্ব ফগার মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু উত্তর-পূর্বাঞ্চলগামী বিভিন্ন জেলার বাসের টার্মিনাল গাবতলীতে গিয়ে এই নির্দেশনা মানার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

গাবতলীতে রাজশাহীগামী খালেক এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ভিআইপি গাড়িতে স্প্রে করে। আমাগো ‘জাওলি’ গাড়িতে স্প্রে করে না। আমাগো বাস তো নন-এসি বাস। গাড়িতে স্প্রে করতে হয় জানতাম না। আজকে জানলাম, কর্তৃপক্ষ বললে স্প্রে করব।’

বাসটির এক যাত্রী বলেন, ‘আমি রাজশাহী যাব। গাবতলী থেকে বাসে উঠেছি। এখন পর্যন্ত আমি বাসে স্প্রে করতে দেখিনি। মনে হয় এরা স্প্রে করবে না।’

উত্তরাঞ্চলগামী আরেক পরিবহন রয়েল এক্সপ্রেসের (এসি বাস) চালক মো. রায়হান উদ্দিন বলেন, ‘সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালে আনার আগে বাসে স্প্রে করেছি। এখন আর স্প্রে করা হয়নি। টার্মিনাল থেকে ছাড়ার আগে বা যাত্রাপথে স্প্রে করা হবে না।’

কিন্তু এসি ও নন-এসি বেশ কয়েকটি বাসের যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাস ছাড়ার আগে বা যাত্রাপথে কোনো ¯েপ্র করা হয়নি।

এদিকে, কমলাপুর রেলস্টেশনেও ঘরমুখো মানুষের বেশ ভিড় দেখা যায়। যেন সব পথ গিয়ে মিশেছিল কমলাপুর রেলস্টেশনে। গত ২৯ জুলাই যারা ট্রেনের আগাম টিকিট কিনেছেন, তারাই প্রথম বাড়ি ফেরা শুরু করেছেন। তবে প্রথম দিন কমলাপুরে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেনে উঠতে পারলেও বিমানবন্দর স্টেশনে বদলে যায় চিত্র। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনগুলো। যাত্রীর চাপে অনেককে পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রেনে উঠতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে।

দেখা যায়, সকাল ৬টায় কমলাপুর থেকে কমলাপুর থেকে রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে হিসেবে এই ট্রেনের যাত্রীরা ভোর থেকে স্টেশনে ছিলেন অপেক্ষায় ছিলেন। আর ঈদের ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে অনেকেই আরো আগে এসে প্ল্যাটফরমে বসেছিলেন। কিন্তু ৬টার ট্রেনটি কিছুটা দেরিতে কমলাপুর ছেড়ে চলে যায়। এদিন কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায় তিনটি ঈদ স্পেশালসহ মোট ৩৭টি আন্তনগর ট্রেন। যেগুলোতে মোট আসন সংখ্যা ২৭ হাজার ৮৮৫টি। তবে প্রথম দিন কমলাপুরে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেনে উঠতে পারলেও বিমানবন্দর স্টেশনে বদলে যায় চিত্র। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনগুলো। যাত্রীর চাপে অনেককে পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রেনে উঠতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে গতকাল ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যের লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এবার দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের ২৩টি জেলার মানুষ নদীপথেই বাড়ি ফিরবেন। ঈদযাত্রায় নৌপথে যাত্রীর চাপ পড়ে দ্বিগুণের বেশি। তবে এ সময় ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সদরঘাট পৌঁছাতে গিয়ে বেশ দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের। বিভিন্ন এলাকা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বাস কম থাকায় গুলিস্তান থেকে হেঁটে সদরঘাটে ছুটতে হয় অনেককে। সদরঘাট থেকে গতকাল বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে গেছে বেশ কয়েকটি লঞ্চ।

 

 

"