মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সবাই মাঠে আছি

* ৫৩ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ * ঢাকার ২ সিটিতেই ১৫ কোটি * সবচেয়ে জরুরি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়া

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সবাই মিলে-মিশে কাজ করছি। ভারতের কলকাতা সফর করে সেখানে কীভাবে এডিস মশা নিধন করা হয়েছে, তা জেনে এসেছি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। সারা দেশে ৫৩ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ বরাদ্দ কিংবা জনবল নিয়োগ দিলেই দেশ ডেঙ্গুমুক্ত হবে, তা নয়, সবচেয়ে জরুরি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়া। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের (বিসিজেএফ) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এদিন সচিবালয়ে ঈদুল আজহার পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপসারণ-সংক্রান্ত সভায় ডেঙ্গু নির্মূলে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে মশাবাহিত এই রোগে বিভিন্ন দেশ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য-উপাত্তও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে সাড়ে ৭ কোটি করে ১৫ কোটি টাকা এবং ঢাকার বাইরের সিটি করপোরেশনকে আট কোটি টাকা ও সারা দেশের পৌরসভাকে ৩০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সাধারণত এডিস মশার প্রাদুর্ভাব হয় মার্চ-এপ্রিল থেকে এবং অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়িত্ব হয়। আমরা মার্চ-এপ্রিল থেকে নিয়মিত সভা করেছি, দুই মেয়রকে নিয়ে সভা করে করণীয়গুলো ঠিক করেছি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করছি। উত্তর সিটি করপোরেশেনে তাৎক্ষণিকভাবে ১৬০০ নতুন লোক নিয়োগ করেছি, দক্ষিণেও যে পরিমাণ লোকের দরকার, চাহিদা অনুযায়ী দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোথাও কোনো ওষুধ পরিবর্তনের দরকার হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কার্যকর ওষুধ ব্যবহারে কমিটি করা হয়েছে। ওষুধ মজুদ আছে এবং নতুন করে আমদানিরও ব্যবস্থা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা কলকাতা থেকে অভিজ্ঞতা নিয়েছি। আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলায় নতুন শিক্ষা নিয়েছি, আমাদের ১২ মাসই কাজ করতে হবে। তবে ডেঙ্গু এ সময়ে বৃদ্ধি পায়। কলকাতায় ওয়ার্ডপ্রতি ২৫ জন নিয়োগ দিয়েছে, আমরাও সেটি করেছি। আমরা সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছি।

বিসিজেএফের সভাপতি কাউসার রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন।

এদিকে, ঈদুল আজহার সময় নির্দিষ্ট স্থানে পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ-সংক্রান্ত সভায় মন্ত্রী বলেন, এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকাকেন্দ্রিক হলেও এখানে এসে অ্যাফেক্টেড হয়ে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

ব্যাংকক পোস্ট পত্রিকার তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ডে বছরের প্রথম ৬ মাসে ২০ হাজার ৭০০ মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। গত চার বছরের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ। গত বছর ১৪ হাজার ৯০০ জন অ্যাফেক্টেড এবং ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফিলিপাইনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার জন বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এডিস মশা ফিলিপাইন থেকে মালয়েশিয়া, মালয়েশিয়া থেকে থাইল্যান্ড, থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসতেই পারে, যদি আসে, তাহলে ঢাকা থেকে কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেটে যাবে নাÑ এ কথাটা আমি কী করে বলব?’ সে জন্য আমাদের সতর্ক না হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। সারা পৃথিবী এই চ্যালেঞ্জটা নিয়মিত মোকাবিলা করছে, আমরাও এটাকে চ্যালেঞ্জ মনে করে সবাই মিলে কাজ করছি। আমি নিজেও মাঠে আছি।

মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে ৯০ শতাংশ মশা কমানো যায় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটার জন্য আমরা মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশন থেকে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছি, টেলিভিশনে টিভিসি প্রচার করছি।

 

 

"