প্রশ্ন ফাঁসে ভর্তি জালিয়াতি

ঢাবির ৬৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার

আগেও ১৫ জনকে শাস্তি

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৬৯ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাবি শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাময়িক বহিষ্কৃত ৬৯ জনকে অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

জানা গেছে, বহিষ্কৃতরা ২০১২-১৩ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা সবাই জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এই ৬৯ শিক্ষার্থী পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চার্জশিটভুক্ত আসামি। ঢাবির প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেই তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই শাস্তির মুখোমুখি হবেন। এর আগে এ ঘটনায় ১৫ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার ৬৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৮৪ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা গোয়েন্দারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় ৬৯ জন শিক্ষার্থী সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের নিরপরাধ প্রমাণের সুযোগ রাখা হচ্ছে। ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত এই ৬৯ জনকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে তাদের কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে নাÑ সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে পারবে।

এর আগে গত ২৩ জুন ঢাবিসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিসিএস, ব্যাংক ও বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে ৮৭ ঢাবি শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র এএসপি সুমন কুমার দাস এ চার্জশিট দাখিল করেন। প্রায় দেড় বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত প্রশ্নফাঁস মামলায় দুটি পৃথক আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মোট চারটি চার্জশিট দাখিল করে তারা।

এরপর প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় ২৬ জুন ৭৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনসারী। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাদের গ্রেফতার করা গেল কি-না, তা ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

 

 

"