গরুকে ইনজেকশন দিলেই ব্যবস্থা

হাটে থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেট

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানি ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছরই পশুর হাটে স্টেরয়েডের মতো ইনজেকশন দিয়ে পশুকে ফোলানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। এ স্টেরয়েড পশু এবং পশুর মাংস গ্রহণকারী মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ক্ষতিকারক এ স্টেরয়েডের ব্যবহার বন্ধে এবার নজরদারি করবেন ম্যাজিস্ট্রেট। শুধু তাই নয়; পশুর পাইকার কিংবা ক্রেতারা যাতে হাটে কোনোভাবে প্রতারিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ঢাকার পশুর হাটগুলোতে বেশ কয়েকটি সংস্থার ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এবার পশুর হাটে র‌্যাব, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা জেলা পরিষদ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নজরদারি করবেন। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএনের সহযোগিতায় হাটগুলোতে থাকবেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। তাদের অভিযান পরিচালনা করবেন অধিদফতরের সহকারী পরিচালকরা। র‌্যাব ও পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীর প্রতিটি হাটে তাদের প্রতিনিধিরা থাকবেন। কোনো অনিয়ম দেখলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সেগুলো তুলে ধরবেন। কোনো ইজারাদার ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাসিল নিচ্ছেন কি না, জোর করে এক হাটের পশু অন্য হাটে নামানো হচ্ছে কি না, হাটে অননুমোদিত কোনো হকার আছে কি না, হাটের চৌহদ্দির বাইরে কোনো পশু নামানো হলো কি না? এ ছাড়া পশু মোটা করার জন্য ক্ষতিকারক কিছু খাওয়ানো হচ্ছে কি না; সে বিষয়টিও নজরে রাখা হবে।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, গত বছর গাবতলীর হাটে আমরা বেশ কয়েকটি গরু দেখেছি যেগুলো ক্ষতিকারক স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে মোটা করা হয়েছে। এ অপরাধে একজন ভুয়া চিকিৎসক ও দুজন গরু ব্যবসায়ীকে সাজাও দেওয়া হয়েছে। ফলে পশুর দেহে অতিরিক্ত পানি জমে শরীর দ্রুত ফুলে ওঠে। স্টেরয়েড ব্যবহৃত মাংস খেলে মানুষের কিডনি, লিভার, অন্ধত্ব, পুরুষত্বহীনতা ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে রোগ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। তাই জনগণের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা এবারও বিভিন্ন হাট থেকে এগুলো নজরদারি করব।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, কোরবানির পশুর হাটের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, ভোক্তাদের বিভিন্ন রকম প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে কোরবানির পশুর হাটে কাজ করবে অধিদফতর। এপিবিএন সদস্যদের সহযোগিতায় পশুর হাটে জাল নোটের প্রতারণা ও পশুর শরীরে স্টেরয়েড কিংবা অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া গেলে সে বিষয়েও হস্তক্ষেপ করা হবে বলে জানান শাহরিয়ার।

 

"