বান্দরবান-সাতক্ষীরা

আ.লীগের ২ নেতাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বান্দরবান ও সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দুটি ঘটনাই গতকাল সোমবার ঘটেছে। নিহত দুজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

বান্দরবান : নিহত মং মং থৈ মারমা (৫০) রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ হত্যার ঘটনায় রোয়াংছড়ি থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, গতকাল সোমবার দুপুরে দলীয় সভা থেকে ফেরার পথে রোয়াংছড়ির শামুকঝিরি নামক স্থানে মং মং থৈ মারমার ওপর হামলা হয়। ওসি আরো জানান, ঘটনাস্থলে নিহতের লাশ পরে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। মং মং থৈ মারমাকে বহনকারী মোটরসাইকেলে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ দিকে স্থানীয়রা জানান, গতকাল সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে তার ব্যক্তিগত কাজে রোয়াংছড়ি যান মং মং থৈ মারমা। দুপুরে সেখান থেকে মোটরসাইকেলযোগে ফেরার পথে আলেক্ষ্যংপাড়া এলাকায় আসলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। এ সময় তার পিঠে ও বাম পাঁজরে দুটি করে গুলি লাগে। পরে রাস্তার পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলামকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের কাশেমপুর হাজামপাড়া নামক স্থান থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত নজরুল ইসলাম আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কুঁচপুকুর গ্রামের মৃত নেছার উদ্দিনের ছেলে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, নজরুল কদমতলা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পেছন থেকে অপর একটি মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎমিশ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশ মাঠে নেমেছে জানালেও হত্যার কারণ সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি। নিহত নজরুলের ছেলে পলাশ হোসেন জানান, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য তৌহিদুলের সঙ্গে তার বাবার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে তার বাবাকে হত্যা করা হতে পারে।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনছুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, ২০১৩ সালের পর থেকে নজরুলের প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের পর থেকে নজরুল ইসলামের পরিবারের ওপর এ পর্যন্ত ৯ বার সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এসব হামলায় তার ভাই সিরাজুল ইসলাম ও ভাইপো যুবলীগ নেতা রাসেল নিহত হন।

"