দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকাদের পদ পুনর্বণ্টন হতে পারে

অনেক নতুন মুখ আসবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

জিয়াউদ্দিন রাজু

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অক্টোবরে। টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতাসীন দলটি মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছে বেশকিছু তরুণ মুখকে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের জাতীয় সম্মেলনে বার্ধক্য, ন্যুব্জ ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুন মুখকে প্রাধান্য দিতে আগ্রহী দলের নীতিনির্ধারকরা। ঐতিহাসিক এ দলটির নতুন নেতৃত্বে কারা আসবেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। জল্পনা-কল্পনার সঙ্গে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় বেশকিছু কেন্দ্রীয় পদে আসতে যাচ্ছেন বেশকিছু নতুন মুখ। সে হিসেবে এবার দলীয় সম্মেলনে ব্যাপক রদবদল হতে যাচ্ছে। সাবেক ছাত্র নেতা ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই পেতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ৭০ বছর পার হওয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে তরুণ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে আসার চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। দলের আগামী জাতীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটের কমিটি গঠন করে সম্মেলন করতে চায় দলের হাইকমান্ড। আর এসব ইউনিট পর্যায়ের নেতৃত্ব তুলে দেয়া হবে অপেক্ষাকৃত তরুণদের হাতে। দলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি আদর্শিক দল। আওয়ামী লীগ করতে গেলে সবাইকে আদর্শ ধারণ করে লালন করতে হবে। দলে যারা নতুন আসবে তাদের উচিত দেশকে ভালোবেসে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করা।

দলের হাইকমান্ড মনে করছে, দলের নিবেদিত প্রাণ যারা তাদের পুরস্কৃত করার সময় এসেছে এই সম্মেলনে। ২১তম সম্মেলনে দলের যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের প্রায় সবগুলো আসতে পারে নতুন মুখ। পরিবর্তন আসতে পারে দ্বিতীয় শীর্ষ পদেও। যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে টানা তিন সম্মেলন ধরে একই পদে দায়িত্ব পালনকারীদের পরিবর্তে নতুনমুখ আনার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। সেক্ষেত্রে দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অন্তত দুজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন। আর আট সাংগঠনিক সম্পাদক পদের বেশিরভাগেই নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির অন্তত দুজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবার দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হতে পারেন। এছাড়া বাকি দুজন একই পদে বহাল হতে পারেন। এছাড়া ফাঁকা থাকা দলের কয়েকটি সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পদে এবার জেলা পর্যায়ের সিনিয়র, ত্যাগী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আনা হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দলের কর্মকা-ে অনুপস্থিতদের এবার হয় বাদ দেয়া হবে। তবে এদের মধ্যে বার্ধক্যে উপনীত অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের উপদেষ্টা পরিষদের স্থান দেওয়া হতে পারে।

মোট ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যারা একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এর মধ্যে রয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদায়ন করা হতে পারে দলীয় কর্মকান্ডে যারা বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করে গেছেন এমন বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতৃত্বকে। এর মধ্যে দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীল বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ কয়েকজন। তার সঙ্গে যুক্ত হবেন বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকের ছেলে ও বর্তমান সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদ হাসান রিপন, সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, আয়েন উদ্দিন, বলরাম পোদ্দার, আজিজুস সামাদ আজাদ ডন ও মসিউর রহমান হুমায়ুন, সাবেক ছাত্রনেতা রবিউল হোসেন রবি (চট্টগ্রাম), হেমায়েত উদ্দিন (ভোলা) নামও আলোচনায় রয়েছে।

 

"