যাত্রা শুরু বেনাপোল ও বনলতা এক্সপ্রেসের

উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল-ঢাকা রুটে দেশের প্রথম প্রতিবন্ধীবান্ধব বিরতিহীন ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেস এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টÑ

বেনাপোল : বেনাপোল-ঢাকা রুটে দেশের প্রথম প্রতিবন্ধীবান্ধব বিরতিহীন ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে এবং সবুজ পতাকা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করেন। ঢাকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন। এছাড়া রেলপথ উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। আনন্দঘন পরিবেশে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উদ্বোধনের পর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন।

বেনাপোল এক্সপ্রেস উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল থেকে বেনাপোলের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত লোক মিছিল সহকারে বেনাপোল রেলস্টেশনে এসে জড়ো হয়। পুরো রেলস্টেশনটি জনসমুদ্রে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ট্রেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করতালিতে ও বিভিন্ন সেøাগানে মুখর হয়ে উঠে রেলস্টেশন এলাকা। রেলওয়ে স্টেশন বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। প্ল্যাটফরমের ওপরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হরেক রকম ফুল দিয়ে গোটা ট্রেনটি সাজানো হয়েছে নান্দনিক সাজে।

ট্রেনটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ, রাজশাহী জোনের সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন চিফ ইঞ্জিনিয়ার অসিম কুমার তালুকদার, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী, যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামানসহ রেল ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১২টি কোচ দ্বারা চলবে। ট্রেনটিতে এসি সিট, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শ্রেণির সর্বমোট ৮৯৬টি (৭৯৫ নম্বর ট্রেনের ক্ষেত্রে) এবং এসি বার্থ, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শ্রেণির সর্বমোট ৮৭১টি (৭৯৬ নম্বর ট্রেনের ক্ষেত্রে) আসনের ব্যবস্থা থাকবে। বেনাপোল ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (৭৯৫) বুধবার ও (৭৯৬) বৃহস্পতিবার। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ছাড়বে দুপুর ১টায়, ঢাকায় পৌঁছবে রাত ৯টায় এবং ঢাকা থেকে ছাড়বে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে, বেনাপোল পৌঁছবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। বেনাপোল থেকে ঢাকা শোভন চেয়ারের টিকিটের মূল্য ৪৮৫ টাকা, এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) চেয়ার ৯৩২ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ১১৬ টাকা ও এসি কেবিন ১ হাজার ৬৭৪ টাকা।

উদ্বোধনী শেষে দুপুর সোয়া ১টায় বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। ট্রেনটিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তারা ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বেনাপোল থেকে ১০৪টি টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেছেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোল এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সার্ভিসের পতাকা ও বাঁশি বাজিয়ে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, সামনে ঈদুল আজহা। ঈদ উপলক্ষে বেনাপোল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীকে উপহার হিসেবে বেনাপোল এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন দিলাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রান্তে ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এ কে এম তাজকির-উজ-জামান। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন আম ব্যবসায়ী ইসমাইল খান শামীম ও এক শিক্ষার্থী।

এ সময় রেল স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নূরুল ইসলাম ঠা-ু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবদুল ওদুদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন শিমুল, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ ফেরদৌসি ইসলাম জেসি, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনের মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মু. জিয়াউর রহমান, সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি সামিউল হক লিটনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর : মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশব্যাপী ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৯’ এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন সেরা মেধাবীকে পুরস্কার দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, মাটি ও মানুষের কথা চিন্তা করে পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করতে হবে। যেন আমরা আমাদের দেশটাকে নিজেদের মতো করে গড়ে তুলতে পারি, কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে। বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। সম্মানজনকভাবে চলতে চাই।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আদর্শকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে সব সময় ভালোবাসবে। দেশের মানুষকে ভালোবাসবে এবং দেশকে গড়ে তোলার জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করবে।

‘নিজের জীবনকেও সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে, পাশাপাশি দেশকেও গড়ে তুলবে। এই চিন্তা-চেতনাটা সব সময় যেন তোমাদের মাঝে থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যারা পুরস্কার পেয়েছ তোমরাই কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ। আমি সোনার ছেলেমেয়েদের বলব, সব সময় মাথায় রাখতে হবে, আমরা হচ্ছি বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আমরা সব সময় মাথা উঁচু করে চলব।

‘এক সময় বিশ্বে বাংলাদেশ বললে হেয়প্রতিপন্ন করা হতো যেটা খুব কষ্ট হতো আমার। আজকে আর সেই দিন নেই। এখন বাংলাদেশ শুনলে সবাই বলে বাংলাদেশ মানে হচ্ছে বিশ্বের বিস্ময়। বাংলাদেশ হচ্ছে উন্নয়নের রোল মডেল। এই ধারাবাহিকতাটা অব্যাহত রাখতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

"