ফুঁসে উঠছে পদ্মা যমুনায় রেকর্ড

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বাড়ছে পদ্মার পানিও। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে রয়েছে গবাদিপশু। লালমনিরহাটে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট :

লালমনিরহাট : লালমনিরহাট থেকে বগুড়া-সান্তাহার রুটের গাইবান্ধার বাদিয়াখালি থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার বন্যার পানি রেললাইনে ওঠায় গাইবান্ধা-বগুড়া-সান্তাহার হয়ে ঢাকা রুটে লালমনিরহাটের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে গাইবান্ধা হয়ে বগুড়া-ঢাকা রুটে বন্ধ করে দেওয়া হয় ট্রেন চলাচল। ফলে লালমনিরহাট ঢাকা রুটের আন্তঃনগর ট্রেন রংপুর-পার্বতীপুর হয়ে ঢাকা যাচ্ছে। বন্যার পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত লালমনিরহাট-গাইবান্ধা-বগুড়া-সান্তাহার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ০.১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার পাংশার সেনগ্রাম ও রাজবাড়ী সদরের মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডে এসব তথ্য জানিয়েছে। অপরদিকে পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে ১০.৪৫ সেন্টিমিটার ও রাজবাড়ী সদরের মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে ৮.৯৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আর ০.৫২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেলে সেনগ্রাম পয়েন্ট ও ১.৮৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেলে মহেন্দ্রপুর পয়েন্টের পদ্মার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। গত বছরের ভাঙনে ধুঞ্চি গোদার বাজার এলাকা থেকে সোনকান্দর পর্যন্ত আড়াই কিলমিটার সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধা ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

রাউজান : রাউজানের সর্তা ও ডাবুয়া খালের বাঁধ ভাঙা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বহু রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর পানি নামতে শুরু করলে রাস্তাগুলোর ছিন্নভিন্ন চেহারা এখন মানুষের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিকদাইর, রাউজান সদর ইউনিয়ন, নোয়াজিশপুর, ডাবুয়া, হলদিয়া, উরকিরচর, বিনাজুরী, পশ্চিম গুজরা, নোয়াপাড়ার রাস্তাঘাট। পৌরসভার ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তারও এই অবস্থা দেখা গেছে। পরিদর্শনে দেখা যায়, পশ্চিম ডাবুয়ার জাকেরিয়া চৌধুরী ঘাটার সঙ্গে থাকা সর্তাখালের বাঁধ ভেঙে হযরত আকবর শাহ সড়কটি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। সর্তাখালে পূর্বপাশ ঘেঁষে থাকা চিকদাইর-কালাচন্দ চৌধুরীহাট সড়কটির বেশির ভাগ অংশ খালের ভেতর ধসে পড়েছে। চিকদাইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রিয়োতোষ চৌধুরী জানিয়েছেন সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে রঘুনন্দন বাড়ি সড়ক, সাহেব বিবি সড়ক, মোহাম্মদ তকির সড়ক, আকবর শাহ সড়ক, মহেন্দ্র বাড়ী সড়ক, নীল কমল কবিরাজ সড়ক, পাঠানপাড়া সড়ক।

নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন সরোয়াদ্দি সিকদার বলেছেন, সর্তার খাল হয়ে আসা পাহাড়ি পানির তীব্র স্রোত সামলাতে না পেরে তার ইউনিয়নের মিলন মাস্টারের বাড়ির পাশে প্রায় ৫০ মিটার খালের পাড় ভেঙে গেছে।

নওগাঁ : নওগাঁর আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা এবং গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বুধবার ভোরে মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর ডান তীরে চকবালু নামক স্থানে প্রায় ১০০ ফুট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বুধবার থেকে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলার আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে ৯০ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের চকবালু নামক স্থানে ভেঙে প্রসাদপুর-জোকাহাট যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিষ্ণপুর ও কসবা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পাহারা দিচ্ছেন। মান্দা উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে আউশ ৮২৯ হেক্টর, আমন ৬০ হেক্টর এবং শাকসবজি ৭৫০ হেক্টর বন্যায় নিমজ্জিত হয়েছে।

রানীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর ছোট যমুনার রানীনগর অংশের নান্দাইবাড়ী-কৃষ্ণণপুর বেড়িবাঁধের অভিভাবক কে? এমন প্রশ্নের জবাব জানে না এলাকার সাধারণ মানুষ। গত ৪০ বছরের সংস্কার উদ্যোগ নেইনি কেউ। বাঁধটি ভেঙে গেলে রানীনগর এবং আত্রাই এই দুই উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার হুমকির মধ্যে আছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : পাঁচ দিনের বন্যার পর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের নি¤œাঞ্চলের শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সীবাজার এলাকায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে হতদরিদ্র পানিবন্দি শত শত পরিবারের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। ৫২ মে.টন চাল বরাদ্দ হলেও বুধবার থেকে সেগুলো বিতরণ করা হবে বলে জানা গেছে।

পতনঊষারের কৃষক তোয়াবুর রহমান জানান, আমরা ত্রাণ চাই না। বীজ, হালির চারাসহ জরুরি ভিত্তিতে কৃষি পুনর্বাসন চাই। এছাড়া উপজেলার শমশেরনগর, পতনউষার, মুন্সীবাজার ও রহিমপুর ইউনিয়নের নিম্ন অঞ্চল এলাকার প্রায় ৩৫টি গ্রামের ৭০০ পরিবার গত চার দিন ধরে বন্যার পানি মোকাবিলা করে দিন কাটছেন।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪.০৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানায়। এরই মধ্যে জেলার কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালিও সদর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী নি¤œ অঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, পৌরসভার আংশিক ও কাজিপুর উপজেলার এর প্রায় ৬৭টি গ্রামের প্রায় ১৩ সহ¯্রাধিক লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তাছাড়াও গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কাজিপুরের ১টি রিংবাধ ভেঙে বন্যার পানি প্রবেশ ও ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানিয়েছেন। এসব বন্যা প্লাবিত এলাকার মানুষের মাঝে ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। জনগণের সুবিধার্থে টিউবওয়েল ও অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বীন আনোয়ার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বন্যা প্লাবিত শুভগাছা, হাটবয়রা, মেছরা, কাওয়াকোলা, গোটিয়ার দুর্গম চরাঞ্চলের দুর্গতদের মাঝে ৯০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ার ধুনট উপজেলার বন্যার পানির প্রবল স্রোতে যমুনা নদীর সহরবাড়ী ঘাট সড়কের প্রায় ১০০ মিটার এলাকা গত মঙ্গলবার রাত ২টায় পানির স্রোতে ধসে যায়। এদিকে যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় শতাধিক স্থানে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পশ্চিম তীরে পানি চুয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে আটাচর গ্রামে বাঁধের পশ্চিম অংশে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা দেবে গেছে। ওই এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে যমুনার পানি বিপৎসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর তিনটি চরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪৭০ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় কৃষকের পাট, ধানের বীজতলা, শাক-সবজি, আখ, মরিচসহ অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাধানগরচরে ভয়াবহ ভাঙনের শিকার হয়েছে অন্তত ৩০টি পরিবার।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) : জামালপুরের বকশীগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র ও দশানী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী উপজেলার বগারচর, সাধুরপাড়া, মেরুরচর, বকশীগঞ্জ সদর ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ৭০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে অপ্রতুল ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) : যমুনা নদীর পানি ২০১৭ সালের ১৩৪ সেন্টিমিটার পানির রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫৯ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি বাড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে উপজেলার চরপাকেরদহ, কড়ইচড়া, গুনারিতলা, বালিজুড়ী, জোরখালী, আদারভিটা ও সিধুলী ইউনিয়নের নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত ৩০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২০ হাজার টাকা, প্যাকেটে শুকনো খাবার, গুড়, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, এক মেট্রিক টন চিড়া, ম্যাচ এবং মোমবাতি বিতরণ করা হয়।

বগুড়া : সারিয়াকান্দির যমুনার হাটবাড়িচরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষের বসবাস। ৪০০ পরিবারের বেশির ভাগের জীবিকা চলে যমুনায় মাছ ধরে। অন্তত দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই চরের অধিকাংশ বসতঘর এখন যমুনার পানিতে তলিয়ে গেছে বুকসমান পানির নিচে। বুধবার দুপুরের পর যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সারিয়াকান্দিতে বাঙালি নদীর পানিও বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। বুধবার তিন উপজেলায় নতুন করে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় মোট ২০ হাজার ২৫টি পরিবারের ৮২ হাজার ৩৮০ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসকের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা আজাহার আলী মন্ডল জানান, এখন পর্যন্ত সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত হয়েছে ১০২টি গ্রাম। প্রায় ৮৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। ত্রাণ হিসেবে সারিয়াকান্দি উপজেলায় ২৫১ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যমুনা তীরবর্তী বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, সাড়ে ৩০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। ধুনট উপজেলায় ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খবার ৩২২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

রায়পুরা (নরসিংদী) : নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ২০ পরিবারের অন্তত ৩০টি বসতঘর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি এ সময় তাদের কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার-হলিকোনা বাজারের বাগময়না গ্রামের বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে বন্যার প্রবাহিত হচ্ছে। বাগময়না গ্রামের লোকেরা স্বেচ্ছাশ্রমে গত তিন ধরে বাঁধ মেরামতে কাজ করে যাচ্ছেন। বেড়িবাঁধের কাজে জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামের লোকেরা বেড়িবাঁধে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা জানান, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার তিন থেকে চারটি স্থান রাস্তার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে পদ্দা নামক বেড়িবাঁধে ১৫ হাজার টাকা খরচ হলে ৫ হাজার টাকা দিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বরা সহযোগিতা করেন। কিন্তু বর্তমান মেম্বারের বাড়ির সামনে রাস্তা দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি তিনি আমলে নেননি। সড়ক রক্ষায় গ্রামের লোকেরা নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ, বস্তা দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে রাস্তা রক্ষায় চেষ্টা করেন।

 

"