ছয় জেলায় বজ্রপাতে বাবা ছেলেসহ ১৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

পাবনার বেড়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের বাবা, ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ, রাজশাহী, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে আরো আটজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার এসব দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বেড়া (পাবনা) : পাবনার বেড়ায় বজ্রপাতে নিহতরা হলেন বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের পাচুরিয়া মোতালেব সরদার (৫৫), তার ছেলে মো. ফরিদ সরদার (২২), মো. শরিফ সরদার (১৮) ও একই গ্রামের মৃত ছকির উদ্দিনের ছেলে রহম আলী (৫৫) পাচুরিয়া ফুটবল খেলার মাঠের পাশের একটি ডোবাতে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিল ও ধোয়ার কাজ করছিল। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয় ও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে তারা নিহত হন। খবর পেয়ে পাবনা জেলা প্রশাসকের তহবিল থেকে বেড়া উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একই পরিবারকে তিনজন নিহতকে ২০ হাজার টাকা ও অপর মৃত কৃষকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেন।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন মৃত মিরাজ আলীর ছেলে হারিদুল (৪৫) ও তার ছেলে তারা মিয়া (১০)। তাহিরপুর থানার এসআই আরিফ রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে দুরুল হুদা (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আজম বলেন, সকালে মাঠে ধান লাগানোর কাজে যান দুরুল। বিকালে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বজ্রপাতে চৈইত কোচ (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়বিলা বিলে চৈইত ও তার বড় ভাই মনু বর্মণ মাছ শিকার করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই চৈইতের মৃত্যু হয়। এ সময় মনু আহত হয়েছেন। ফুলবাড়িয়া থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় বজ্রপাতে এনামুল হক (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এনামুলের বাড়ি সন্ন্যাসীপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। মোজাম্মেল হক জানান, সকালে গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন এনামুল। পথেই বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চুয়াডাঙ্গা ?: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বজ্রপাতে তিন শ্রমিকের মত্যু হয়েছে। তারা সবাই ট্রাকে কলা বোঝাই করছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার মেহেরপুরের বারাদি ইউনিয়নের মকবুলের ছেলে আল আমিন (৩০), গোলাম রসুলের ছেলে হুদা (৩২) ও মো. বরকতের ছেলে হামিদুল (৩৫)। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সোনিয়া আহমেদ বলেন, বজ্রপাতে গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

 

"