ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

গেল কয়েক বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এরই মধ্যে এপ্রিল থেকে জুলাইয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১ জন। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জুলাই মাসে গতকাল পর্যন্ত ১৩ দিনে মোট ১ হাজার ৭০০ জন আক্রান্ত রোগী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অর্থাৎ দিনে গড়ে ১৩৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও বলছেন, এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এদিকে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় আতঙ্কিত অন্য রোগী ও স্বজনরা। ছোঁয়াচে না হলেও এডিস মশার মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীর কাছ থেকে ডেঙ্গু ছড়িয়ে যায় অন্যের শরীরে। তাই হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মশারি ব্যবহারে সচেতনতার পাশাপাশি বিশেষ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়ারর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন বলেছেন, সবাই যার যার জায়গা থেকে সচেতন হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব। গতকাল শনিবার সকালে খিলগাঁওয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে নাগরিকদের পাশে আছে ডিএনসিসি।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথম দরকার সচেতনতা। আমরা যেই উদ্যোগ নিয়েছি তা থেকে এই শহরের মানুষ খুব শিগগিরই সুফল পাবে বলে আশা করি। খুব দ্রুতই আমরা মানুষকে ডেঙ্গুমুক্ত শহর উপহার দিতে সক্ষম হব। তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশন মানুষকে সবসময় সহায়তা করবে। আইনি বিষয়গুলো আদালতের মাধ্যমে ঠিক হবে। আমরা আইনি বিষয়ের জন্য বসে থাকব না। এ সময় তিনি মশক নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির গৃহীত এবং চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১ জুলাই থেকে ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধনের মাধ্যমে মশক নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি নাগরিক উদ্বুদ্বকরণ ও সচেতনতামূলক সভা, সমাবেশের আয়োজন, লিফলেট বিতরণ, মাইকিংকরণ, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, অতিরিক্ত জনবল নিয়োজিত করে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে কল সেন্টারের মাধ্যমে বিনামূল্যে নগরবাসীকে ওষুধসহ চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ সময় মেয়রের সঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওয়াহিদুল হাসান মিল্টন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডোর জাহিদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ভাইরাসজনিত ডেঙ্গু জ্বর এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। মশা মারতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ব্যবহার করে, তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) দুটি গবেষণায় দেখেছে, এই ওষুধে মশা মরছে না।

হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত হচ্ছেন একই ওয়ার্ডে থাকা অন্য রোগীরা। ডেঙ্গু প্রকোপ অন্যদের মধ্যেও যেন ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আক্রান্তদের বিশেষ ওয়ার্ডে স্থানান্তরের আহ্বান সাধারণ রোগীদের।

তবে বিশেষ ওয়ার্ড না হলেও বিশেষ কর্নার করা হয়েছে বলে জানান সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া।

 

"