জাতীয় নদী কমিশনের প্রতিবেদন

শত নদী ধুঁকছে দখলের থাবায়

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দূষণ ও দখলের কবলে পড়ে ধুঁকছে শত নদী। নদীর তীরে রয়েছে বড় অবৈধ স্থাপনা। মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের এসব নদী পর্যবেক্ষণ করেছে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন। তারা বলছে, তারা দখলের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছে। তাদের সুপারিশ মেনে অন্যরা কাজ করবেন।

কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগের ১০ জেলার ১০২ নদীতে ৮৪৪ বড় অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। যার বেশিরভাগই শিল্প কারখানা। নদী কমিশন প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে হাটবাজার ও শিল্প কারখানাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখানে সাধারণ মানুষের বসতিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এরপরও দখলের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিল্প মালিকরা শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন নদীর জমি দখল করে।

নদী কমিশন বলছে, তারা নিজেরা কোনো কিছুই করতে পারে না। কেবল সরকারের কাছে নিজেদের সুপারিশ জমা দিতে পারে। সরকারই জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। তবে জেলা প্রশাসনের ১০টি কাজ থাকলে ১০ নম্বরেই রাখা হয় নদী দখল-দূষণ রোধকে। যদিও সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নদী দখল দূষণ প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্টরা তৎপর হন।

ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলায় মোট নদীর সংখ্যা ৬টি। নদীগুলো হচ্ছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ইছামতি, ধলেশ্বরী ও বংশী নদী। সব নদীই দূষিত। ইছামতি নদীর তীরে ৭৫টি অবৈধ স্থাপনা আছে। ধলেশ্বরীতে ১০০ এবং বংশী নদীতে ৬০টি অবৈধ দখল স্থাপনা রয়েছে। অন্যদিকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ২টি বাজার এবং ৮৫টি শিল্প কারখানা আছে। তুরাগ নদের তীরে ৩টি বাজার এবং ৮টি শিল্প কারখানা, ইছামতি, ধলেশ্বরী ও বংশী নদীর তীরে ২টি করে বাজার রয়েছে।

মানিকগঞ্জ : এই জেলায় নদী আছে দুটি। ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গা। ধলেশ্বরীর তীরে দুটি শিল্প কারখানা এবং কালীগঙ্গা নদীর তীরে ৩টি বাজার আছে।

মুন্সীগঞ্জ : মোট নদীর সংখ্যা সাতটি। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, রজতরেখা, বাংলাবাজার, চরবানিয়াল ও ইছামতি। এর মধ্যে পদ্মার তীরে ৩টি, মেঘনার তীরে ২টি, ধলেশ্বরীর তীরে ৪টি, রজনরেখার তীরে ২টি ও ইছামতির তীরে ৪টি বাজার আছে। অন্যদিকে, ধলেশ্বরীর তীরে ২৪টি, মেঘনার তীরে ১২টি ও রজতরেখার তীরে ২টি শিল্প কারখানা রয়েছে।

গাজীপুর : এই জেলায় রয়েছে তুরাগ, গোয়ালা, বংশাই, শালদহ, শীতলক্ষ্যা, পারুলিয়া, মাটিকাটা, সুতীয়া, ব্রহ্মপুত্র, বানার ও বালু নদী। এর মধ্যে তুরাগ তীরে ৩টি বাজার ও ২৫ শিল্প কারখানা আছে। গোয়ালা নদীতে একটি, বংশাই এর তীরে একটি, শীতলক্ষ্যার তীরে একটি বাজার ও ৬টি শিল্প কারখানা রয়েছে। এছাড়া পারুলিয়ায় ২টি, মাটিকাটার তীরে ১টি, সুতীয়ায় ২টি, ব্রহ্মপুত্রে ৫টি ও বানার নদীর তীরে ৪টি বাজার রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ : মোট নদী ৬টি। এগুলো হলো বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও বালু নদী। এ নদীগুলোর তীরে ২৮টি বাজার এবং ১৮৮টি শিল্প কারখানা রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ : মোট নদী ৩৩টি। এর মধ্যে নরসুন্দা নদীর তীরে ১৪টি, ব্রহ্মপুত্রে ৭টি, সিংগুয়া ১টি, মেঘনায় ২টি, কালনী কুশিয়ারার তীরে ৭টি, বেতাগায় ৩টি, বেতাই ধমনীতে ৩টি, উজানধনুতে ১টি, ডুবিতে ৫টি, মগরা ১টি, ?সুরমায় ১টি, কালনী ৩টি, ধনু ২টি, চিনাই ১টি, উজান ধনু ১টি, সুতী নদীর তীরে ৩টি ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে ছোট আকারের ১৫টি দোকান আছে।

মাদারীপুর : মোট নদী ৪টি। এর মধ্যে আড়িয়াল খাঁর তীরে ৫টি বাজার ও ২টি শিল্প কারখানা, কুমার নদীর তীরে ৩টি বাজার ও ৪ শিল্প কারখানা, লোয়ার নদীর তীরে ২টি বাজার ও ৩টি শিল্প কারখানা এবং টরকী নদীর তীরে ২টি বাজার রয়েছে।

রাজবাড়ী : এই জেলায় নদীর সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে নদীর তীরগুলোয় ২টি বাজার, ৩টি হাট এবং ৩৫টি দোকান রয়েছে। এই নদীগুলোর তীরে শিল্প কারখানা নেই। তবে বাজার আছে।

ফরিদপুর : জেলায় মোট নদীর সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে কুমার নদীর তীরে ২১টি বাজার, চান্দনা বারশিয়া নদীর তীরে ৬টি বাজার ও ২টি শিল্প কারখানা, গড়াই নদীর তীরে ২টি শিল্প কারখানা, মারকুমান নদীর তীরে ১০টি বাজার এবং পদ্মা নদীর তীরে ৮টি বাজার রয়েছে।

গোপালগঞ্জ : জেলায় মোট নদীর সংখ্যা ১২টি। এর মধ্যে এই ৯টি বাজার আছে। তবে কোনো শিল্প কারখানা নেই।

নরসিংদী : জেলায় মোট ৭টি নদী রয়েছে। তবে এসব নদীর তীরে কোনো অবৈধ স্থাপনা নেই।

এই বিষয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান হাওলাদার বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা আবার নতুন করে প্রতিবেদন তৈরি করছি। কাজ চলছে। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোন নদী কী পরিমাণ দখলের শিকার, কী কী পদক্ষেপ নিয়ে নদী দখলমুক্ত করা যাবে এবং এ পর্যন্ত কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করা হবে।

 

"