উপজেলা নির্বাচন

নৌকাবিরোধীদের বহিষ্কার ও শাস্তির সিদ্ধান্ত

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

জিয়াউদ্দিন রাজু

গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকাবিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকা এমপি-মন্ত্রীদের দল থেকে বহিষ্কারে আদেশ এসেছে। যারা উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের দল থেকে বরিষ্কার ও যারা এতে ইন্ধন দিয়েছিলেন তাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। গতকাল শুক্রবার গণভবনে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া দেশজুড়ে সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করার সিদ্ধান্তও হয়েছে ওই বৈঠকে। এতে সভাপতিত্ব করেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনে যারা সরাসরি আওয়ামী লীগে দায়িত্বশীল পদে থেকে দলীয় প্রতীক নৌকার বিরোধিতা করেছেন তাদের দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া যেসব সংসদ সদস্য ও নেতা নৌকার বিরোধিতায় ইন্ধন দিয়েছে তাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শোকজের জন্য দলের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের কাছে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি তালিকাও তৈরি হচ্ছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়টি সিরিয়াসলি নিয়েছে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দলের মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন, সিটি নির্বাচন, শোকের মাস আগস্টের কর্মসূচিসহ দলীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তে হয়েছে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও দলীয় সূত্রে জানায়, বৈঠকে দলের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দূর করতে করণীয় এবং নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করা এমপি-মন্ত্রীসহ অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকের মাস আগস্ট উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

প্রসঙ্গত, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠে প্রায় অর্ধশত সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে। তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে অনেকটা একতরফা এই নির্বাচনেও নৌকার প্রার্থীরা হেরেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলটি।

এর আগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্য রাখেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যে তিনি বলেন, একদিকে যেমন আমাদের সংগঠন শক্তিশালী করে গড়ে তোলা দরকার। পাশাপাশি আমরা যে জায়গাতে এসেছি, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের নিজেদের যেসব পরিকল্পনা ছিল- সরকারে এলে কী করবÑ এসব কিছু ছিল বলেই কিন্তু আমরা সরকারে আসার পর কাজগুলো করতে পেরেছি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আজকে আমরা যেখানে এসেছি সেখান থেকে দেশকে আগামীতে কোথায় নিয়ে যাব? সে পরিকল্পনাও আমাদের আছে। সেটা আমরা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছি। সেই প্রস্তুতিটা আমাদের নিতে হবে। সেই পথগুলো আমাদের ধাপে ধাপে অতিক্রম করতে হবে। তার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে শক্তিশালী করা।

চলমান অতিবৃষ্টিসহ দেশের জনগণের কল্যাণে সব কিছুর দিকে সরকারের পক্ষ থেকে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও নেতাকর্মীদের আরো সজাগ ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

তিনি বলেন, আমরা মানুষকে অবহেলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তাদের বিপদে পাশে দাঁড়াতে চাই। আমরা খুব বড় বড় উন্নত দেশের মতো উন্নয়ন হয়তো করতে পারব না, কিন্তু প্রতিটি মানুষই তার জীবনটাকে অর্থবহ করবে, দারিদ্র্যের হাত থেকে তারা মুক্তি পাবে, তারা সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে। তাদের জীবনের যে লক্ষ্যগুলো তা যেন পূরণ করতে পারে অন্তত সেইভাবে আমাদের দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই।

 

"