ডিসি সম্মেলন শুরু রোববার

এবারের লক্ষ্য সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন

* আলোচনার জন্য এসেছে ৩৩৩ প্রস্তাব * সবচেয়ে বেশি স্থানীয় সরকার বিভাগ সংক্রান্ত

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী রোববার থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। সম্মেলন চলবে ১৮ জুলাই পর্যন্ত। অতীতের দিনগুলোয় ডিসি সম্মেলন তিন দিনব্যাপী হলেও এবার দুই দিন বেড়ে হচ্ছে পাঁচদিন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এবার ডিসি সম্মেলনে যুক্ত হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকারও। ওইদিন সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে ২৪টি কার্য অধিবেশনে ৩৩৩টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের ডিসি সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রতি বছর এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪ জেলার ডিসিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এবার ডিসি সম্মেলনের সময় দুই দিন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি, স্পিকার এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও ডিসিদের বৈঠক হবে।

এ বছর ডিসি সম্মেলনে ২৯টি অধিবেশন হবে জানিয়ে শফিউল বলেন, এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ২৪টি। কার্য অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ৫৪টি মন্ত্রণালয় বিভাগ অংশ নেবে। কার্য অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে সম্মেলনে আলোচনার জন্য ৩৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ সংক্রান্ত। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রস্তাব বেশি পাওয়া গেছে।

ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম জোরদারকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্নেন্স, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণরোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয় নিয়ে ডিসি সম্মেলনে আলোচনা হবে বলে জানান শফিউল।

১৫ জুলাই সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে ডিসিদের দিক-নির্দেশনা দেবেন রাষ্ট্রপতি। ১৬ জুলাই বিকালে সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। এছাড়া ১৮ জুলাই বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ডিসিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

১৭ জুলাই সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কার্য অধিবেশন হবে। ১৮ জুলাই বুধবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে হবে ডিসি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশন। গত বছর ডিসি সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

 

"