স্বপ্নের ফাইনালে ইংল্যান্ড

* অস্ট্রেলিয়া : ২২৩/১০ * ইংল্যান্ড : ২২৬/২ * ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

লক্ষ্যটা ‘মাত্র’ ২২৪। বুধবার এমন লক্ষ্য ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সামনে ইমারতসম হয়ে দাঁড়ানোয় শঙ্কা ছিল ইংল্যান্ডকে নিয়েও। কিন্তু এই ইংল্যান্ড যে আগের ইংল্যান্ড নয়; এই ইংল্যান্ড যেসব বাধাকে বুড়ো আঙুলি দেখিয়ে হেসেখেলে জয় তুলে নেওয়া এক দলের নাম, যারা কি না এইবার বিশ্ব জয়ের পণ করেই খেলতে নেমেছে। ইংলিশরা সেই লক্ষ্য ছুঁতে আর মাত্র এক ধাপ দূরে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও চিরশত্রু অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে স্বপ্নের ফাইনালে পা রেখেছে স্বাগতিকরা। অজিদের দেওয়া লক্ষ্যটাকে মামুলি বানিয়ে ফেলেছে মরগানের দল। ২২৪ রান টপকে গেছে ৮ উইকেট আর ১০৭ বল অক্ষত রেখেই। অনায়াস এই জয়ে ২৭ বছর পর ক্রিকেট মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নাম লেখাল ইংল্যান্ড। আগামী রোববার    তীর্থভূমি লর্ডসে অধরা শিরোপা উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের মোকাবিলা করবে ক্রিকেটের জনকেরা।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে কাল নয়ন জুড়ানো ব্যাটিং করেছেন ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দম্ভ ছড়ানো অজিদের বিপক্ষে ২২৪ রান এত সহজেই টপকে মূলত রয়ের তা-বলীলার কারণেই। উদ্বোধনী জুটিতে জনি বেয়ারস্টোকে সঙ্গে নিয়ে ১৭.২ ওভারে ১২৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রয়। ৪৩ বলে ৩৪ রান করে ফেরেন জনি বেয়ারস্টো।

৫০ বলে ফিফটি করা রয় একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন। কিন্তু প্যাট কামিন্সের বলে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির জোড়ালো আবেদনে সাড়া দিয়ে রয়কে আউট দিয়ে মাঠ ছাড়া করেন কুমার ধর্মসেনা ও মারাইস ইরাসমাস। আম্পয়ারের আউটের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি রয়। তিনি মাঠেই প্রতিবাদ জানান। বারবার দুই হাত প্রসারিত করে বলছিলেন, এটা কটবিহাইন্ড নয়! বরং ওয়াইড। আক্ষেপ নিয়ে জেসন রয় যখন মাঠের সীমানা রশির কাছাকাছি পৌঁছান ঠিক তখন রিভিউতে স্পষ্টই দেখা যায়, বলটি ওয়াইডই ছিল। আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তার ক্যারিয়ারের একটি সম্ভাবনাময় সেঞ্চুরির অপমৃত্যু হয়! মাত্র ৬৫ বলে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৮৫ রান করে ফেরেন জেসন রয়। এরপর ইয়ন মরগানকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন জো রুট।

বৃহস্পতিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমেই ক্রিস ওকস এবং জফরা আর্চারের গতির মুখে পড়ে যায় অজি ব্যাটসম্যানরা। জিতলে ফাইনালে, হারলে বিদায়। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে স্কোর বোর্ডে ১৪ রান জমা করতেই সাজঘরে ফেরেন অজি তিন সেরা ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব।

দলের এমন চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে উইকেটে নেমেই জফরা আর্চারের বাউন্সারের শিকার হন অ্যালেক্স ক্যারি। ৮ ওভারে দলীয় ১৪/৩ এবং ব্যক্তিগত ৪ রানে জফরা আর্চারের বাউন্সার সরাসরি অ্যালেক্স কেরির হেলমেটে আঘাত হানে। সঙ্গে সঙ্গে তার থুতনি ফেটে রক্ত পড়া শুরু হয়। সাময়িক শুশ্রƒষা নিয়ে অনবদ্য ব্যাটিং চালিয়ে যান ক্যারি।

চতুর্থ উইকেটে স্টিভ স্মিথের সঙ্গে ১০৩ রানের জুটি গড়েন ক্যারি। অনবদ্য ব্যাটিং করে ফিফটির পথেই ছিলেন তিনি। আদিল রশিদের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দেন। তার আগে ৭০ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৪৬ রান করেন ক্যারি।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন স্মিথ। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ অধিনায়ক। সেঞ্চুরির পথে থাকা স্মিথ ইনিংস শেষ হওয়ার ১৭ বল আগে দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে ফেরেন।

অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরার আগে ১১৯ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৮৫ রান করেন স্মিথ। তার বিদায়ের পর মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে মিচেল স্টার্ক ও জেসন বেহরেনডর্ফের উইকেট হারিয়ে ৪৯ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।