করের আওতা বাড়াতে আসছে অ্যাপস

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকসই রাজস্ব সক্ষমতা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্বের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি মাস থেকে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এছাড়া বেশির ভাগ মানুষকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ওয়েবভিত্তিক নিজস্ব সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে করজালের বাইরে থাকা বিপুল সংখ্যক মানুষকে করজালে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সফটওয়্যারের মাধ্যমে আয়কর বিভাগের ৬৪৯টি করাঞ্চলকে মোবাইল অ্যাপসের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই অ্যাপস ব্যবহার করে যে কেউ কোনো

ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানে নিয়োজিত ব্যক্তির কর পরিশোধ সনদ বৈধ কিংবা কার্যকর অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ কিনা তা যাচাই করতে পারবেন। কার্যকর না হলে এই অ্যাপসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে অভিযোগ করারও সুযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৮৪ (সি) উপধারায় কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানে নিয়োজিত ব্যক্তির কর শনাক্তকরণ নম্বরের (আইএন) সনদপত্র নিজস্ব কার্যালয়ে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটি পরিপালন করা হচ্ছে না। তাই এই বিধান পরিবর্তন করে কর পরিশোধ সনদপত্র ঝুলিয়ে রাখার বিধান করার চিন্তা করছে এনবিআর। একইসঙ্গে সেটি যেন কঠোরভাবে পালন করা হয় সেই উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, বর্তমানে দেশে ইটিআইএন-ধারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। কিন্তু এর মধ্যে বছরে গড়ে আয়কর বিবরণী (রিটার্ন) দাখিল করেন মাত্র ২০ থেকে ২২ লাখ করদাতা। অর্থ্যাৎ অর্ধেক ইটিআইএন-ধারী রিটার্ন দাখিল করেন না। ওয়েবভিত্তিক নিজস্ব সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপস চালু করলে ভোগান্তি ছাড়াই করদাতারা তাদের বিবরণী জমা দিতে পারবেন।

জানা যায়, বর্তমানে দেশের ১ শতাংশ মানুষ এখন কর দেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে করদাতার সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কর প্রদানে সক্ষম বেশির ভাগ মানুষকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে যারা করপ্রদান করছেন তাদের ফাঁকি বন্ধেও কঠোর অবস্থানে এনবিআর। তবে কর আদায়ের পাশাপাশি করদাতাদের সেবার দিকেও নজর রয়েছে এনবিআরের। এরই মধ্যে এনবিআর মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

"