কুমিল্লায় ভাবি-ভাতিজাসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাধানগর গ্রামে ভাতিজা-ভাবিসহ তিনজনকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে মোখলেছুর রহমান নামে এক রিকশাচালক। এ সময় সে সামনে যাকে পায় তাকেই কোপাতে থাকে। তার এই তা-ব থামাতে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে ঘাতককে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ঘাতক মোখলেছ। তার দায়ের কোপে আহত হয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আরো পাঁচজন।

জানা যায়, উপজেলার ধামতী ইউনিয়নে রাধানগর গ্রামের মর্তুজার ছেলে রিকশাচালক মোখলেছুর রহমান (৪৫) গতকাল বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পর সকাল ১০টার দিকে হাতে ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফেরে। তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম এ সময় তার ব্যাগে একটি দা দেখতে পান। ব্যাগে দা কেন? জানতে চাইলে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে মোখলেছ। এক পর্যায়ে মোখলেছ দা নিয়ে তার স্ত্রীকে কোপাতে যায়। স্ত্রী দৌড়ে পালিয়ে গেলে মোখলেছ দা নিয়ে বের হয়ে বাড়ির সামনে যাকে পায় তাকেই কোপাতে থাকে। এ পর্যায়ে সে তার ভাতিজা আবু হানিফ (১২), ভাবি আনোয়ারা বেগমকে (৪০) কোপাতে থাকে। তাদের আর্তচিৎকারে পাশের ঘরের নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৬) এগিয়ে এলে মোখলেছ তাকেও কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে লোকজন মোখলেছুর রহমানকে আটকের চেষ্টা করে। এ সময় মোখলেছুর রহমানের এলোপাতাড়ি কোপে আরো পাঁচজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা মোখলেছুর রহমানকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই সেও নিহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

আহতদের মধ্যে মাজেদা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ডাক্তার জানান। এ ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। শত শত লোক ভিড় জমায় ঘটনাস্থলে। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন অন্যান্য কর্মকর্তরা।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মোখলেছুরকে নিয়ে স্থানীয়রা ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করছেন। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। সে কেন বা কী কারণে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে সেটা বের করার চেষ্টা করছি।

দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার জানান, রাধানগর গ্রামের মোখলেছুর রহমান দুই নারী ও এক কিশোরকে ছুপিয়ে হত্যা করেছে। সে পেশায় রিকশাচালক ছিল। স্থানীয়রা জানান, মোখলেছুর রহমান মাদকাসক্ত ছিল। মাদকসেবন করতে করতে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে সে।

 

 

"