নগর আ.লীগের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে কাল

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

জিয়াউদ্দিন রাজু

ক্ষমতাসীন দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে উত্তর ও দক্ষিণের কমিটির। তবে এখন পর্যন্ত সব থানা বা ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই দুই কমিটির নেতারা। এ দিয়ে হাতাশা রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে।

দলের ওপর মহলের চাপে এখন দীর্ঘদিন পর মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা পেলেই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকা একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা জানায়, আগামী ১২ জুলাই শুক্রবার আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় ঢাকা মহানগরের সম্মেলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিবারই জাতীয় সম্মেলনের আগে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারও হবে। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে ত্রিবার্ষিক এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর সম্মেলনের বিষয়ে কেন্দ্রের দুজন প্রেসিডিয়াম সদস্যকে দেয়া হয়েছে সমন্বয়ের দায়িত্ব। উত্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও দক্ষিণের ড. আবদুর রাজ্জাক।

আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে। এক্ষেত্রে বর্তমান ও সাবেক মহানগর নেতাদের আমলনামা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যেসব নেতার কারণে গত তিন বছরে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি এবং নতুন-পুরোনোদের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখেছেন, তাদের নতুন কমিটিতে জায়গা নাও হতে পারে। সক্রিয় ও ত্যাগীদের কমিটিতে স্থান দিতে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

সম্মেলনের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সম্মেলনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। তবে আমরা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কেন্দ্রের দিকনির্দেশনা এলেই আমরা সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণা করব। একই কথা বলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। তিনি বলেন, আমরা এখনো কেন্দ্রের নির্দেশনা পাইনি। আমরা কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুত, এখন শুধু মাত্র কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিগন্যালের অপেক্ষায় আছি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের সম্মেলনের সময় ঢাকা মহানগরকে উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল দুই অংশের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ওই বছর ১১ সেপ্টেম্বর ৭৫ সদস্যের মহানগর কমিটি ও মহানগর উত্তরের অধীনে ২৬টি থানা, ৪৬টি ওয়ার্ড এবং ৯টি ইউনিয়ন এবং দক্ষিণের ২৩টি থানা এবং ৫৭টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

২০১৯ সালের এপ্রিলে শেষ হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ। কিন্তু এখন পর্যন্ত সব থানা, ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়নি।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিগত তিন বছরে দিবসভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল দলীয় কার্যক্রম। প্রতিপক্ষের আন্দোলন-সংগ্রাম না থাকায় অনেকটা ঝিমিয়ে কেটে যায় পুরো মেয়াদ। তারা আরো বলেন, তিন বছরে কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সভা হয়নি। কয়েকটি বর্ধিত সভা হয়েছে। উত্তর কমিটির একটি পরিচিতি সভা হয়েছিল শুরুর দিকে। এরপর আর একত্রে বসা হয়নি মহানগর কমিটির নেতাদের।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ২৪টি ওয়ার্ড, ৫৭টি থানা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি থানা ও ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কমিটি হয়ে গেলেও সবগুলো করতে পারেনি কমিটির দায়িত্বে থাকা নেতারা। আরো জানা যায়, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী বংশাল, লালবাগ ও কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।

এর আগে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠন নিয়ে নগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বের বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ পর্যন্ত গড়ায়। সে সময় নগর নেতাদের এ বিষয়ে সাবধান করে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সে সময় তিনি কমিটিতে বিতর্কিত কাউকে স্থান না দিতে ও ত্যাগীদের স্থান দিতে মহানগর নেতাদের নির্দেশ দিতেন তিনি।

এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অধীন থানা ও ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দুবার ঘোষণা দিয়েও নেতাকর্মীদের বাধায় তা বাতিল করা হয়। ২০১৮ সালের ৫ জুলাই প্রথমবার ঢাকা উত্তরের অধীন থানা-ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। পরে নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের কারণে কমিটি বাতিল করা হয়। তারপর ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর মহানগর উত্তর দ্বিতীয় দফায় থানা ও ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিটি থানায় ৭১ সদস্য এবং প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে ৬৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করে মহানগর উত্তর।

 

 

"