ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা জ্বরের মৌসুমের আগেই ২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন অন্তত তিনজন। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক আছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫৫১ জন, এ তথ্য জানিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ গেল কয়েক বছরের তুলনায় বেশি উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগ এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই মশার প্রজননক্ষেত্রও চিহ্নিত করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি হবে। ডেঙ্গু মশার ধরন পাল্টে যাওয়ায় তারা জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে বাসায় চিকিৎসা না দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মশক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। মশক নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলে মশক নিধন কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আবাসিক এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সাধারণত এপ্রিল-জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। এরপর ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে থাকে। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬২৬ জন।

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এবার কেবল জুন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭১৩ জন; যা বিগত তিন বছরের শুধু জুন মাসের তুলনায় ৫ গুণেরও বেশি। আর চলতি মাসের প্রথম চার দিনে ৩৫৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গত শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন জানিয়েছিলেন ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। এ সময় তিনি জোর গলায় তুলে ধরেন তাদের নেওয়া কার্যক্রমগুলো। একই অনুষ্ঠানে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম মশা নিধনের ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, মশার ওষুধ ছিটানোর দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। দ্য এগ্রো লিমিটেড এবং এগ্রো ফুডকে কালো তালিকাভুক্ত করেছি এবং তাদের মশার মেডিসিন আমরা নেব না।

এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছিলেন, কোনো ওয়ার্ড কাউন্সিলের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বছর সরকারি বেসরকারি ৪৭টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্য সংগ্রহ করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক আয়শা আক্তার বলেন, এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় ঢাকা শহরের অনেক নতুন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ কারণে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি লিপিবদ্ধ হচ্ছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানো এবং যাতে মৃত্যু না হয় সে বিষয়ে সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা। তিনি বলেন, ঢাকায় ঘনবসতি বেশি। এখানকার পরিবেশও এডিস মশার জন্য সবচেয়ে অনুকূলে। শহরজুড়ে নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণকাজের এলাকায় জমে থাকা পানিতে মশা ডিম পাড়ে। এ কারণে নির্মাণাধীন এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব বেশি পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আক্রান্ত দুজন ডেঙ্গু রোগী মারা যান। তাদের একজনের বয়স ৫৩ বছর। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ এপ্রিল মারা যান। আরেকজনের বয়স ৩২ বছর। তিনি ২৮ এপ্রিল মারা যান। সর্বশেষ ২ জুলাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তেজগাঁও, তুরাগ, পল্লবী, মগবাজার, উত্তরা, গুলশান, বনানী, কাফরুল, খিলগাঁও, রামপুরা, মিরপুর, পীরেরবাগ, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, বনানী, গুলশান, বারিধারায় সবচেয়ে বেশি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দয়াগঞ্জ, নারিন্দা, স্বামীবাগ, গেন্ডারিয়াসহ আশপাশের এলাকা, বাসাবো, মানিকনগর বিশ্বরোড, শেরেবাংলা রোড, হাজারীবাগ, মগবাজার ও রমনা, সেগুনবাগিচা, শাহবাগ, হাজারীবাগ, ফরাশগঞ্জ, শ্যামপুর, উত্তর যাত্রাবাড়ীতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বেশি।

 

 

"