প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু দালান দেখি, গবেষণা কোথায়

* রিকশা চলাচলে আলাদা লেন নির্মাণের নির্দেশ * চট্টগ্রাম-সিলেটে মাটির নিচে যাচ্ছে বিদ্যুৎ লাইন * আবার জেগে উঠবে জরাজীর্ণ ডাকঘর

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও সৃজনশীলতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। বলেছেন, শুধু দালান দেখি, কিন্তু গবেষণা তো দেখি না। ভবন গড়ার পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রমও বাড়াতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি জানান, দেশের ২৬৭টি জরাজীর্ণ ডাকঘর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটের সব বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচে নেওয়া হবে। এজন্য ৩ হাজার ৪১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে। একনেক সভায় এই দুই প্রকল্পসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে যেসব জেলায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হবে তার আশপাশের যত সরকারি কলেজ থাকবে সবগুলো ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে। এছাড়া তিতুমীর কলেজের মাঠটিকে তিনি মাঠ হিসেবেই রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে যাতে কোনো অবকাঠামো না হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব মহাসড়কে রিকশা, ভ্যানসহ সব গ্রামীণ যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা ধীরগতির লেন নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেশের জাতীয়, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সব সড়ক প্রশস্ত ও পুরু করা এবং পুরোনো সরু সেতু ভেঙে নতুন করে করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও সৃজনশীলতা বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, শুধু দালান করলেই হবে না পাশাপাশি গবেষণা বাড়াতে হবে। এখন থেকে যে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে, সেই জেলার কলেজগুলোকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করতে হবে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশের ডাক অধিদফতর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের শহর অঞ্চলসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ ডাকঘর অতি পুরাতন এবং জরাজীর্ণ হওয়ায় দাফতরিক কাজসহ ডাকসেবা দেওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। দ্রুত ডাকসেবা নিশ্চিতে জরাজীর্ণ ডাকঘরগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রথম পর্যায়ে মোট ৩৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত খরচে ২০০৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুনে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অধীন জরাজীর্ণ ডাকঘরগুলোর নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির আওতায় বাংলাদেশ ডাক অধিদফতর দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১০৪টি জরাজীর্ণ ডাকঘর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিন একনেকে অনুমোদন হওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, বগুড়া-নাটোর জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তকরণ উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭০৭ কোটি টাকা। ঢাকা-উথুলি-পাটুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক আমিনবাজার থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকা ডেডিকেটেড লেনসহ সার্ভিস লেন ও বাস-বে নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। লাকসাম-বাইয়ারাবাজার-ওমরগঞ্জ-নাঙ্গলকোট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬১ কোটি টাকা। মর্ডানাইজেশন অব সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম অ্যাট ডিফারেন্ট এরিয়া আন্ডার চিটাগাং সিটি করপোরেশন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৮৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ এবং ১৩টি জেলা কার্যালয় স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। বিএডিসির বিদ্যমান সার গুদামগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩১১ কোটি টাকা।

নদী তীর সংরক্ষণের মাধ্যমে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলা সদর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬০৯ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, কক্সবাজারের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২৬ কোটি টাকা। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার ৯টি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

একনেক সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

 

"